শাহজালাল মাজারে ১৯ দিনে ৪৭ লাখ টাকা দান, মিলল রহস্যময় চিরকুট
শাহজালাল মাজারে ১৯ দিনে ৪৭ লাখ টাকা দান, মিলল চিরকুট

সিলেটের ঐতিহাসিক হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানের ডেক থেকে দ্বিতীয় দফায় গত ১৯ দিনে মোট ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা পাওয়া গেছে। শনিবার (১১ জুলাই) দিনভর গণনা শেষে মাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে গণনার পর টাকার পরিমাণ ঘোষণা করেন।

গণনা কার্যক্রম ও অংশগ্রহণ

শনিবার বেলা ১১টার দিকে দরগাহ মসজিদের বারান্দায় জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে ৩টি ঐতিহাসিক ডেক ও ৫টি ছোট-বড় দানপাত্র থেকে ৪ বস্তা টাকা বের করে গণনা শুরু হয়, যা শেষ হয় শেষ বিকালের দিকে। শাহজালাল (রহ.) মাজার মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা এ টাকা গণনা কার্যক্রমে অংশ নেয়।

বিদেশি মুদ্রা ও মূল্যবান সামগ্রী

গণনা শেষে সংশ্লিষ্ট কমিটির হিসাব অনুযায়ী, এবার নগদ বাংলাদেশি টাকার পাশাপাশি সোনা-রূপা, গবাদিপশু, বিশ্বের আরও ১২টি ভিন্ন দেশের মুদ্রা এবং বেশ কিছু চমকপ্রদ চিঠি ও রহস্যময় চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে, যা ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। প্রাপ্ত বিদেশি মুদ্রার মধ্যে রয়েছে- সৌদি আরবের ১৩৫ রিয়াল, ভারতের ২ হাজার ৫৩২ রুপি, ইউএই’র ৫৪.২০ দিরহাম, ওমানের ১ দিনার ৪৫০ পয়সা, ইন্দোনেশিয়ার ৪ হাজার রুপিয়া, আমেরিকার ২০ ডলার, হংকংয়ের ২০ ডলার, ইইউ’র ২০ ইউরো, সিঙ্গাপুরের ১০ ডলার, কাতারের ২২ রিয়াল, মালয়েশিয়ার ৬ রিঙ্গিত এবং পাকিস্তানের ৬০ রুপি। এছাড়া মূল্যবান অলংকারের মধ্যে ৯ গ্রাম সোনা, ১০ গ্রাম স্বর্ণসদৃশ বস্তু এবং ৩৯.৪ গ্রাম রূপা পাওয়া গেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গবাদিপশু ও চিরকুট

সর্বশেষ গণনার দিন থেকে গতকাল পর্যন্ত ভক্তদের দান করা গবাদিপশুর মধ্যে একটি গরু লঙ্গরখানায় রান্না করে বিতরণ করা হয়েছে এবং ৬৫টি ছাগলের মধ্যে ৪০টি লঙ্গরখানায় রান্না ও অবশিষ্ট ২৫টি ১ লাখ ২৫ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। নগদ অর্থ ও অলংকারের বাইরে এবার ভক্তদের ফেলে যাওয়া নানা আর্তি ও অভিযোগের চিঠিও কর্মকর্তাদের নজরে এসেছে।

উপস্থিতি ও ব্যবস্থাপনা

টাকা গণনার সময় সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদীসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং মাজার আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, গত ২২ জুন তৎকালীন জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রথমবার মাজারের ডেক খোলা হলে মাত্র ৪ দিনে ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। প্রথমবার বড় নোটের আধিক্য থাকলেও এবারের ১৯ দিনের সংগ্রহের উল্লেখযোগ্য অংশজুড়ে ছিল ১০ ও ৫০ টাকার ছোট নোট।

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি

মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গত ২৬ জুন বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে প্রধান করে ১১ সদস্যের এই উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয় এবং দানের অর্থ সোনালী ব্যাংকে মাজারের নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হবে।