বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় পাট চাষে এক নতুন উন্মাদনা দেখা দিয়েছে। কৃষকরা এ বছর সরকারি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি জমিতে পাট চাষ করেছেন। গত মৌসুমে বাম্পার ফলন ও ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে পাট চাষে আগ্রহ বেড়েছে। এই নদীবহুল উপজেলায় সোনালি আঁশের ‘স্বর্ণযুগ’ ফিরে আসার আশা করছেন অনেকে।
ভৌগোলিক অবস্থান ও মাটির গুণাগুণ
সারিয়াকান্দি উপজেলা যমুনা, বাংলালি ও সুখদহা নদীর তীরে অবস্থিত। এখানকার উর্বর বেলে-দোআঁশ মাটি পাট চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এই উপজেলা ঐতিহ্যগতভাবে দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ পাট উৎপাদনকারী এলাকা হিসেবে পরিচিত। তবে গত কয়েক বছরে বেড়ে যাওয়া শ্রমিক মজুরি ও দরপতনের কারণে পাট চাষে ভাটা পড়েছিল।
গত বছরের সাফল্য ও এ বছরের সম্প্রসারণ
গত বছর পাটের ভালো দাম ও ফলন পেয়ে কৃষকরা এ মৌসুমে জমির পরিমাণ বাড়িয়েছেন। সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ও এ বছর উভয় মৌসুমেই ৩,৭০০ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। গত বছর ৩,১০৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছিল, যেখানে গড় ফলন ছিল হেক্টরপ্রতি ২.৯ টন। এ বছর পাট চাষের আওতায় এসেছে প্রায় ৫,৫০০ হেক্টর জমি, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৫০% বেশি। ইতিমধ্যে প্রায় ৩৫০ হেক্টর জমির পাট কাটা হয়েছে।
কৃষকের প্রতিক্রিয়া ও দাম
সদর ইউনিয়নের পারটিট পাড়া গ্রামের কৃষক লেবু আকন্দ গত বছর যমুনা নদীর তীরে পাঁচ বিঘা জমিতে পাট চাষ করে ভালো লাভ করেছিলেন। তিনি বলেন, “গত বছর ভালো দাম পাওয়ায় এ বছর আরও বেশি জমিতে পাট চাষ করেছি। গাছগুলো মানুষের উচ্চতার প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে এবং কাটা শুরু করেছি।” তিনি আরও জানান, বর্তমানে পাট প্রতি মণ ৩,৫০০ থেকে ৪,০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম স্থিতিশীল থাকলে আরও ভালো লাভের আশা করছেন তিনি।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, গত বছর পাট কাটার মৌসুমে তারা প্রতি মণ ৩,৬০০ টাকা পর্যন্ত পাট কিনেছিলেন। এ বছর দাম শুরুতে ৫,৪০০ টাকা পর্যন্ত উঠলেও পরে কমে প্রায় ৪,২০০ টাকায় স্থিতিশীল হয়েছে। যারা গত বছর পাট মজুদ করেছিলেন, তারা বর্তমান দামে যথেষ্ট লাভ করেছেন।
কৃষি অফিসের মূল্যায়ন
সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, “উপজেলার বেলে-দোআঁশ মাটি ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছরও বাম্পার ফলন হয়েছে। গত কয়েক বছর পাট চাষ কমে গেলেও গত মৌসুমে ভালো দাম ও ফলন পাওয়ায় কৃষকরা আবারও পাট চাষে আগ্রহী হয়েছেন। তারা সন্তোষজনক দাম পাচ্ছেন, যা পাটকে এই অঞ্চলে একটি লাভজনক নগদ ফসল হিসেবে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়ক হচ্ছে।”
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা আশাবাদী যে পাট চাষের এই ধারা অব্যাহত থাকবে। ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে সোনালি আঁশের স্বর্ণযুগ ফিরে আসতে পারে। তবে পাটের দামের স্থিতিশীলতা ও বিপণন ব্যবস্থার উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।



