বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে কলাবাগানে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নারীসহ আহত অর্ধশতাধিক
বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে কলাবাগানে সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক

সুনামগঞ্জের ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার সীমান্তবর্তী চেলা ও মরা চেলা নদীতে পরিবেশবিধ্বংসী উপায়ে অবৈধ বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে কলাবাগান এলাকায় ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

সংঘর্ষের বিবরণ

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে ছাতক উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের কাজিরগাঁও এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের মধ্যবর্তী মরা চেলা (কলাবাগান) এলাকায় দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে উভয় পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিলে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রায় ৩ ঘণ্টাব্যাপী চলা এই দফায় দফায় সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। পরবর্তীতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে।

অবৈধ বালু উত্তোলন ও পরিবেশগত প্রভাব

স্থানীয় সূত্র জানায়, গভীর রাতে কোটি কোটি টাকার বালু লুটের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। গত এক সপ্তাহ ধরে চেলা ও মরা চেলা নদীর বালুমহালে নিষিদ্ধ ‘বোমা মেশিন’ (অবৈধ ড্রেজার), শ্যালোমেশিনসহ বিভিন্ন যান্ত্রিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে একটি প্রভাবশালী চক্র গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত দেদার বালু উত্তোলন করছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি তলদেশ অস্বাভাবিকভাবে গভীর হয়ে পড়ায় এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে নদীতীরবর্তী বসতভিটা, ফসলি জমি, শিক্ষাকেন্দ্র, মসজিদ-মাদরাসাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বিলীনের হুমকির মুখে পড়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নদী থেকে উত্তোলিত কোটি কোটি টাকার বালু ট্রলারযোগে বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে কোম্পানীগঞ্জের দিকে পাচার করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের ইজারার শর্ত সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে নির্ধারিত এলাকার বাইরেও নদীর তলদেশ ও তীর কেটে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এ ঘটনাস্থলটি দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী হওয়ায় ছাতক ও দোয়ারাবাজার থানার পুলিশ দায়িত্ব এড়াতে একে অপরের ওপর দায় চাপাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের প্রতিক্রিয়া

এ ব্যাপারে ছাতক বাজার একতা বালু উত্তোলন ও সরবরাহকারী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির নেতারা জানান, ইজারার শর্ত লঙ্ঘন করে নদীর নির্ধারিত এলাকার বাইরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে পরিবেশ ও নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা অবিলম্বে অবৈধ ড্রেজার ও বোমা মেশিন বন্ধ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ ও এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে আমরা ছাতক নৌপুলিশ ফাঁড়িকে বিষয়টি অবহিত করেছি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”

পুলিশের বক্তব্য

এ বিষয়ে ছাতক থানার ওসি মিজানুর রহমান সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এ সংঘর্ষের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “কাজিরগাঁও ও সোনাপুর গ্রামে ফরেস্ট জায়গা থেকে দুইপক্ষ অবৈধভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন করে জীবিকা নির্বাহ করছে।” তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।