চরফ্যাশনে ভারী বর্ষণে প্লাবিত এলাকা, ত্রাণ দিলেন ইউএনও
চরফ্যাশনে ভারী বর্ষণে প্লাবিত এলাকা, ত্রাণ দিলেন ইউএনও

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় টানা ভারী বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীর পাশবর্তী গ্রামে জোয়ারের পানির উচ্চতা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। উত্তাল বঙ্গোপসাগরের বিশাল ঢেউ উপকূলে আছড়ে পড়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।

প্লাবিত এলাকা ও ক্ষয়ক্ষতি

উপজেলার বেশ কয়েকটি চর এলাকা প্লাবিত হয়েছে। আসলামপুর, মাদ্রাজ, হাজারিগঞ্জ, জাহানপুর, চরমানিকা, নীলকমল বাংলাবাজার, ঘোষেরহাট ও নজরুল নগরসহ ঢালচর, কুকরি-মুকরি এবং চরপাতিলা ও চর নিজাম প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকায় ভারী বর্ষণের প্রভাবে নদীর পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় খাল-বিল, পুকুর-জলাশয়, মাছের ঘের ও কৃষি ফসল তলিয়ে গিয়েছে। বিভিন্ন ইউনিয়নের স্লুইসগেট বন্ধ থাকায় জলাবদ্ধতার কারণে নিচু এলাকার অনেক ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। হাঁস-মুরগির খামার ও গবাদিপশুর খামারও পানিতে ডুবে আছে।

উপকূলীয় মানুষের দুর্ভোগ

ধারাবাহিক ভারী বর্ষণে উপকূলীয় মানুষের জীবন-জীবিকা থমকে গেছে। জোয়ারের পানির কারণে স্থানীয় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশেষ করে চরফ্যাশন উপজেলার মেঘনা-তেতুলিয়া বেষ্টিত উপকূলীয় অঞ্চলে প্রায় ১০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের ঢালে অতিবর্ষণে কষ্টে থাকা ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষ।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ত্রাণ বিতরণ

বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার বেতুয়া থেকে মাদ্রাজ ও হাজারিগঞ্জ বেড়িবাঁধ এলাকায় বাঁধের ঢালে নারী ও শিশু নিয়ে বসবাস করা দরিদ্র পরিবার ও বিভিন্ন ছিন্নমূল অসহায় মানুষের হাতে ত্রাণ সামগ্রী তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ। এসময় তিনি ভাসমান এসব অসহায় মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। ইউএনওর দেওয়া মানবিক খাদ্য সহায়তা পেয়ে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের চোখে-মুখে আনন্দের হাসি ফুটে ওঠে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ বলেন, “আমার কাছে তথ্য ছিল—বেড়িবাঁধ এলাকায় ভাসমান ছিন্নমূল পরিবার রয়েছে। এদের দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও শিশু খাদ্যের তীব্র সংকট। এসব অসহায় পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তাদের সুখ-দুঃখের অংশীদার হওয়ার চেষ্টা করেছি। এক সপ্তাহের ধারাবাহিক বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলের এসব দরিদ্র মানুষের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মানবিক খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “তাদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি এই বৃষ্টিতে অনেক দরিদ্র পরিবারের কর্মক্ষম সদস্য জীবিকা নির্বাহ করতে পারেনি। দিনমজুর, রিকশাচালক, ভ্যানচালক ও শ্রমজীবী মানুষ কাজ করতে না পেরে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অন্যদিকে মৌসুমি ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষি খাতে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাই এসব মানুষের মধ্যে চাল, ডাল, তেল, লবণ, চিনি ও হলুদ, মরিচের গুঁড়াসহ অন্যান্য খাদ্য সামগ্রী তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।”