যুক্তরাষ্ট্রের বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা টেসলার একটি গাড়ি সম্প্রতি টেক্সাসের একটি বাড়িতে ধাক্কা দিয়ে ৭৬ বছর বয়সী এক নারীকে হত্যা করেছে। ঘটনাটি ঘটে ১৯ জুন, যখন একটি টেসলা মডেল থ্রি হিউস্টনের কাছে একটি বাড়িতে আঘাত করে। গাড়িটি স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং সহায়তা ব্যবস্থায় চলছিল বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার বিবরণ ও তদন্ত
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা প্রশাসন (এনএইচটিএসএ) সোমবার জানিয়েছে, তারা এই প্রাণঘাতী ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। সংস্থার এক মুখপাত্র আল-জাজিরাকে বলেন, ‘এনএইচটিএসএ এ দুর্ঘটনা নিয়ে বিশেষ তদন্ত শুরু করছে।’ টেসলা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করলেও তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
চালকের বক্তব্য ও পুলিশের তথ্য
টেক্সাসে দুর্ঘটনার কবলে পড়া গাড়িটির চালক পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনি টেসলা মডেল ৩-এর স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং সহায়তা ব্যবস্থা ব্যবহার করছিলেন। তখন গাড়িটি রাস্তা থেকে ছিটকে একটি বাড়িতে গিয়ে ধাক্কা মারে। টেক্সাসের হ্যারিস কাউন্টি শেরিফের দপ্তর এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, চালকের শরীরে মদ্যপান বা অন্য কোনো নেশার লক্ষণ পাওয়া যায়নি এবং তিনি তদন্তে সহযোগিতা করেছেন।
ইলন মাস্কের প্রতিক্রিয়া
টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক ঘটনার সময় গাড়িটি স্বয়ংচালিত মোডে ছিল বলে মানতে রাজি নন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি নাকচ করে দিয়েছেন। মাস্ক বলেন, ‘এফএসডি আবাসিক এলাকার রাস্তায় ধীরে চলে, কিন্তু এটি ছিল উচ্চগতির একটি দুর্ঘটনা।’
টেসলা কর্মকর্তার বক্তব্য
টেসলার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট অশোক এলুসওয়ামিও দাবি করেছেন, এ দুর্ঘটনার জন্য কোম্পানির প্রযুক্তি দায়ী নয়। তিনি এক্সে লেখেন, চালক অ্যাক্সিলারেটর চেপে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ অতিক্রম করেছিলেন। এলুসওয়ামি বলেন, ‘দুর্ঘটনার সময় গাড়ির গতি ঘণ্টায় ৭৩ মাইল (প্রায় ১১৭ কিলোমিটার) ছিল। এমনকি দুর্ঘটনার পরও অ্যাক্সিলারেটর চাপা ছিল।’ তবে তিনি তথ্যের সূত্র উল্লেখ করেননি। তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেন, আগামী ১০ বছরে যুক্তরাষ্ট্রের ৯০ শতাংশ গাড়ি স্বয়ংচালিত হবে।
প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা ও নিয়ন্ত্রক নজরদারি
টেসলা তাদের গাড়ির ‘সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়’ প্রযুক্তির প্রচার করলেও এটি পুরোপুরি স্বয়ংচালিত নয়; চালকের সার্বক্ষণিক নজরদারি প্রয়োজন। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এই প্রযুক্তির সঙ্গে জড়িত প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার পর নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর নজরদারি বেড়েছে। গত অক্টোবরে এনএইচটিএসএ ৫৮টি ঘটনার রিপোর্ট পাওয়ার পর তদন্ত শুরু করে, যেখানে টেসলা গাড়ি লাল বাতি অমান্য বা বিপরীত লেনে চলে যাওয়ার অভিযোগ ছিল। চলতি বছরের মার্চে আরেকটি তদন্ত জোরদার করা হয়, যেখানে কুয়াশা বা সূর্যের আলোর মতো পরিস্থিতিতে স্বয়ংচালিত ব্যবস্থার কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হচ্ছে। টেসলা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, তাদের প্রযুক্তি মানুষের চালানোর চেয়ে ১০ গুণ বেশি নিরাপদ।



