ঢাকায় ভূমিকম্প ও নগর দুর্যোগ মোকাবিলায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় মোট ৪৪৫টি নিরাপদ আশ্রয়স্থল চিহ্নিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) জাতীয় সংসদে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান।
ঢাকা সিটিতে ৪৪৫টি আশ্রয়স্থল
মন্ত্রী জানান, নগর দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৫৬টি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৮৯টি—মোট ৪৪৫টি ভূমিকম্পের নিরাপদ আশ্রয়স্থল চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব আশ্রয়স্থল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
এক লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুতির উদ্যোগ
ঢাকা মহানগর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য এক লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বেচ্ছাসেবকদের তথ্য সংগ্রহ করে একটি সমন্বিত ডাটাবেজ তৈরি করা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ভূমিকম্প-পরবর্তী উদ্ধার ও জরুরি সাড়া প্রদানের সক্ষমতা বাড়াতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, বাংলাদেশ ভূমিকম্প ও সুনামির ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের নিকটবর্তী হওয়ায় সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রস্তুতিমূলক ও ঝুঁকি হ্রাসমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২, দুর্যোগ বিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলি (এসওডি), ২০১৯, জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা এবং জাতীয় ভূমিকম্প প্রস্তুতি ও মোকাবিলা পরিকল্পনার আলোকে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
কমিটি, প্রশিক্ষণ ও মহড়া
জাতীয়, জেলা, উপজেলা ও স্থানীয় পর্যায়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করে নিয়মিত সভা, প্রশিক্ষণ ও মহড়া আয়োজন করা হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং কমিউনিটি পর্যায়ে নিয়মিত ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ড বিষয়ক মহড়া পরিচালনার মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।
সতর্কবার্তা ও উদ্ধার সক্ষমতা
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর, ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে ভূমিকম্প ও সুনামি সংক্রান্ত তথ্য পর্যবেক্ষণ এবং দ্রুত সতর্কবার্তা প্রচারের ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, আনসার-ভিডিপি এবং সিপিপির স্বেচ্ছাসেবক দলকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও আধুনিক সরঞ্জাম প্রদান করা হয়েছে।
ভূমিকম্প সহনশীল অবকাঠামো
মন্ত্রী বলেন, ভূমিকম্প সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) অনুসরণে গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। সরকার ভূমিকম্প ও সুনামিজনিত ঝুঁকি হ্রাস এবং জনগণের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।



