ডেঙ্গু মোকাবিলায় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন: ফখরুল
ডেঙ্গু মোকাবিলায় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ ডেঙ্গু প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় শুধু সরকারি উদ্যোগই নয়, জনগণের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণও খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

জাতীয় কমিটির সভায় নির্দেশনা

সচিবালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে জাতীয় কমিটির প্রথম সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিবও। এ সময় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলম উপস্থিত ছিলেন।

টাস্কফোর্স গঠন

সভায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও প্রতিক্রিয়া কার্যক্রম আরও জোরদার করতে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। টাস্কফোর্সটি মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং জরুরি ব্যবস্থা বাস্তবায়নের জন্য দায়ী থাকবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গৃহীত সিদ্ধান্ত

সভায় ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন অফিস ও সংস্থার মাধ্যমে লিফলেট ও সচেতনতামূলক সামগ্রী ব্যাপকভাবে বিতরণ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসায় বিশেষ ডেঙ্গু সচেতনতা প্রচারণা চালানো এবং স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের সমন্বয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করা।

সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে ফগার মেশিন ও মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের নিয়মিত পরীক্ষা ও মান পর্যবেক্ষণ, এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংসে বিশেষ অভিযান পরিচালনা এবং নির্মাণাধীন ভবন, ছাদ বাগান, টায়ারের দোকান, গ্যারেজ ও জলাবদ্ধ এলাকায় পরিদর্শন বৃদ্ধি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সচেতনতা ও মনিটরিং

এছাড়া গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে সচেতনতা প্রচারণা জোরদার করা, ডেঙ্গু প্রতিরোধ সংক্রান্ত মনিটরিং ও তদারকি কার্যক্রম জোরদার করা এবং ডেঙ্গু রোগীদের তথ্য দ্রুত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বক্তাদের মতামত

সভায় বক্তারা বলেন, বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু সংক্রমণ বাড়ার সম্ভাবনা থাকায় এখন থেকেই সমন্বিত ও জোরালো প্রস্তুতি জরুরি। তারা জাতীয় কমিটির নেওয়া সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন, মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম ত্বরান্বিত এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।

সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সংস্থা ও সিটি কর্পোরেশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় সরকার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ওয়াসা, এলজিইডি, ডিপিএইচই ও রাজউকের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।

জাতীয় কমিটি পুনর্গঠন

সভায় জানানো হয়, ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সরকারের কার্যক্রম আরও সমন্বিত ও কার্যকর করতে সম্প্রতি জাতীয় কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বাধীন এই কমিটিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার প্রতিনিধিরা রয়েছেন।

সভায় আশা প্রকাশ করা হয় যে, জাতীয় কমিটির প্রথম সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কার্যকর অগ্রগতি অর্জন সম্ভব হবে।