নওগাঁয় এনজিও গ্রাহকদের আমানত ফেরতের দাবিতে বিক্ষোভ, পরিচালক আটক
নওগাঁয় এনজিও গ্রাহকদের বিক্ষোভ, পরিচালক আটক

নওগাঁয় সমতা ও নেসডো এনজিওর গ্রাহকরা তাদের আমানতের টাকা ফেরতের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন। শনিবার (১১ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নওগাঁ সদরের খলিশাকুড়ী গ্রামে সমতা এনজিওর প্রধান কার্যালয় এবং এনজিওর পরিচালক শাহিনুর রহমান শাহীনের বাসা ঘেরাও করে অবস্থান নিয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন তারা।

পুলিশের উপস্থিতি ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ

খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থলে নওগাঁ সদর থানা পুলিশ অবস্থান নেয়। কিছুক্ষণ পরে পুলিশ জানতে পারে শাহিনুর রহমান শাহীন বাসার ভেতরে আছেন। এরপর শাহীনের সঙ্গে কথা বলতে পুলিশ ও গ্রাহকদের একটি প্রতিনিধিদল বাসার ভেতরে যান।

পরিচালকের বক্তব্য ও গ্রাহকদের অভিযোগ

পুলিশ জানায়, পুলিশ ও গ্রাহকদের প্রতিনিধিদলকে শাহীন বলেছেন, সমতা এনজিওতে গ্রাহকদের আমানত আছে ১৮০ কোটি টাকা এবং নেসডো এনজিওতে আরও ৬০ কোটি টাকা আমানত আছে। কিন্তু ২০২৫ সাল থেকে এনজিওটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর গ্রাহকদের আমানতের টাকা ও লভ্যাংশ দিতে পারছেন না তিনি। তবে এনজিও সচল করতে পারলে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে টাকা পরিশোধ করবেন তিনি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গ্রাহকদের অভিযোগ, এনজিওর পরিচালক শাহিনুর রহমান শাহীন ২০২৫ সাল থেকে আমানতকারীদের লভ্যাংশ দেওয়া বন্ধ করে দেন। কিছুদিন পর আমানতের সব টাকা নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান। এরপর আমানত ফিরে পাওয়ার দাবিতে একাধিক গ্রাহক তার বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করলে কিছুদিন কারাগারে ছিলেন। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি বলেছিলেন, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে গ্রাহকদের বকেয়া লভ্যাংশের অর্ধেক পরিশোধ করবেন। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে না পেরে তিনি আবার ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত সময় চান। সে পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও অর্থ পরিশোধ না করায় গ্রাহকরা তাদের আমানতের সম্পূর্ণ টাকা ফেরতের দাবিতে কার্যালয় ও বাসা ঘেরাও করেছেন। এতে বাসার মধ্যে আটকা পড়েন শাহিনুর রহমান শাহীন।

প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও পরিচালক আটক

খবর পেয়ে নওগাঁ সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নূরে আলম সিদ্দিকী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলেন। বিষয়টি আইনগতভাবে সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি। পরে শাহিনুর রহমান শাহীনকে আটক করে থানার পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

স্মারকলিপি প্রদান

মানববন্ধন শেষে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা দ্রুত তাদের আমানতের টাকা ফেরত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে নওগাঁ জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি দেন।