কলারোয়ায় ভেজাল ডিজেলের ঘটনায় ব্যবসায়ীর ৪ লাখ টাকার পটল নষ্ট
সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায় একটি ফিলিং স্টেশন থেকে নেওয়া ভেজাল ডিজেলে ট্রাকের ইঞ্জিন বিকল হয়ে ৪ লক্ষাধিক টাকার কাঁচামাল পটল নষ্ট হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুরে উপজেলার কাজীরহাট এলাকার মেসার্স ডেলমা ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি তেল নেওয়ার পর এই বিপত্তি ঘটে বলে জানা গেছে।
ব্যবসায়ীর বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও কুশোডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা মো. বজলুর রহমান জানান, শুক্রবার দুপুরে তিনি সোনাবাড়িয়া বাজার থেকে ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা মূল্যের পটল কিনে একটি ট্রাকে করে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে পাঠান। পথিমধ্যে দুপুর ২টার দিকে কাজীরহাটে অবস্থিত মনিরুল ইসলামের মালিকানাধীন ডেলমা ফিলিং স্টেশন থেকে ১২ হাজার ৩০০ টাকার ডিজেল নেওয়া হয়।
ট্রাকচালক মো. সালাম জানান, তেল নেওয়ার কিছুক্ষণ পরেই ইঞ্জিনের শব্দ বদলে যায় এবং যশোর পৌঁছানোর পর গাড়িটি বিকল হয়ে পড়ে। স্থানীয় মেকানিকরা দীর্ঘ ৫ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে জানান, জ্বালানি তেলে প্রচুর পরিমাণে পানি মেশানো থাকায় ইঞ্জিনের ভেতরে পানি ঢুকে সেটি জ্যাম হয়ে গেছে।
গাড়িটি দীর্ঘ সময় রাস্তায় পড়ে থাকায় গরমে ট্রাকে থাকা ৪ লাখ টাকার ওপরের সব পটল পচে নষ্ট হয়ে যায়। এতে যাতায়াত ও গাড়ি মেরামত বাবদ আরও প্রায় ৫০ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ওই ব্যবসায়ীর।
অন্যান্য যানবাহনেও একই সমস্যা
অভিযোগ উঠেছে, ওই দিন ডেলমা ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি নেওয়া আরও বেশ কিছু যানবাহনে একই ধরনের যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দিয়েছে। পাম্পের ম্যানেজার মো. আব্দুল হাকিম ডিজেলে পানি থাকার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “এই ধরনের ঘটনা এখন অহরহ ঘটে থাকে। আমরা ১০-২০ হাজার টাকা বা তেল পরিবর্তন করে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছি।”
তবে ব্যবসায়ী বজলুর রহমান জানান, পাম্প কর্তৃপক্ষ সামান্য তেলের দাম ফেরত দিতে চাইলেও তার বিশাল অঙ্কের মালের ক্ষতির দায় নিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে।
পাম্প কর্তৃপক্ষের গোপন কার্যকলাপ
এদিকে একটি ভিডিওতে দেখা গেছে পাম্প কর্তৃপক্ষ গোপনে তেলের ট্যাংকি থেকে পানি অপসারণ করছে। ডিলার প্রতিষ্ঠান পদ্মা অয়েল কোম্পানির পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীকে সংশ্লিষ্ট পাম্প বা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীন বলেন, “ভেজাল তেলের কারণে মালামাল নষ্ট ও আর্থিক ক্ষতির বিষয়ে এখনও কোনও লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও দাবি
জ্বালানি তেলে পানি মেশানোর এমন ঘটনায় সাধারণ পরিবহন মালিক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা এ ধরনের জালিয়াতি রোধে বিএসটিআই ও স্থানীয় প্রশাসনের নিয়মিত অভিযানের দাবি জানিয়েছেন।
এই ঘটনা সাতক্ষীরা অঞ্চলে ভেজাল জ্বালানির ব্যাপক সমস্যার দিকে আলোকপাত করেছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ব্যবসায়ীরা দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানাচ্ছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি না হয়।



