ঈদ শেষে পাটুরিয়া ঘাটে যাত্রী চাপ, বাসভাড়া দ্বিগুণের অভিযোগ
ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার তাগিদে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় যাত্রীদের চাপ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এই সুযোগে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দেড় থেকে দ্বিগুণ পর্যন্ত অতিরিক্ত টাকা আদায় করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী যাত্রীরা জানিয়েছেন, বাসের সংখ্যা কম থাকায় তারা প্রায় জিম্মি হয়ে এই বাড়তি ভাড়া দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
যাত্রীদের বক্তব্য: বাড়তি ভাড়ায় হয়রানি
সরেজমিনে দেখা গেছে, শুক্রবার দুপুরের পর থেকে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে যাত্রীর চাপ তীব্র হয়ে উঠেছে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে কর্মস্থলে ফেরা মানুষজন, বিশেষত পোশাকশ্রমিকরা, এই পথ ব্যবহার করছেন। কুষ্টিয়া থেকে ফিরছিলেন পোশাকশ্রমিক মো. তুহিন ইসলাম, যিনি বলেন, 'স্বাভাবিক সময়ে পাটুরিয়া থেকে সাভারে বাসভাড়া ১৩০ টাকা হলেও এখন নেওয়া হচ্ছে ৩০০ টাকা। বিষয়টি দেখার কেউ নেই, প্রতিবাদ করারও কেউ নেই।' অন্য একজন যাত্রী তরিকুল ইসলাম যোগ করেন, 'দুপুরে গাবতলীর ভাড়া ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা নেওয়া হয়েছে, এখন ৩০০ টাকা চাইছে, অথচ অন্যান্য সময় এ পথের ভাড়া ১৮০ টাকা।'
পরিবহনকর্মীদের যুক্তি: জ্বালানি খরচের দোহাই
পরিবহনশ্রমিকদের দাবি, ঢাকা থেকে খালি বাস নিয়ে পাটুরিয়ায় আসতে হয়, তাই এই ফিরতি পথের জ্বালানি তেলের খরচ বাবদ যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা নেওয়া হচ্ছে। তবে যাত্রীরা বলছেন, ঈদের আগেও তারা বাড়তি ভাড়া দিয়েছেন, এবং এখনো একই সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। হৃদয় হোসেন নামের আরেক পোশাকশ্রমিক উল্লেখ করেন, 'পাটুরিয়া থেকে সাভারের ভাড়া স্বাভাবিকভাবে ১২০ টাকা, কিন্তু এখন ৩০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। এই অতিরিক্ত ভাড়া আমাদের জন্য বিশাল হয়রানি।'
পার্কিং চার্জ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ
শুধু বাসভাড়াই নয়, পার্কিং চার্জ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় শিবালয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাল হোসেন, যিনি টার্মিনালের ইজারাদার, তাঁর লোকজন প্রতিটি গাড়ি থেকে নির্ধারিত ৫০ টাকার বদলে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা নিচ্ছেন বলে অভিযোগ। শুক্রবার বিকেলে এক কর্মীকে ১৫০ টাকা নিতে দেখা গেছে, যদিও তিনি বাড়তি টাকা নেওয়া হচ্ছে না বলে দাবি করেছেন। আলাল হোসেন নিজেও বলেছেন, রসিদের মাধ্যমে নির্ধারিত ৫০ টাকাই নেওয়া হচ্ছে।
প্রশাসনের ভূমিকা: ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস
বাড়তি বাসভাড়া ও পার্কিং চার্জ নেওয়ার বিষয়ে শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনির হোসেন জানিয়েছেন, যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া নিলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, কেউ অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে যাত্রীরা বলছেন, পুলিশ বা প্রশাসনের কেউ সক্রিয়ভাবে হস্তক্ষেপ করছে না, এবং পরিবহন সিন্ডিকেট এই পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছে।
এই অবস্থায়, ঈদ পরবর্তী সময়ে পাটুরিয়া ঘাটে যাত্রী সেবার মান নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যাত্রীরা আশা করছেন, কর্তৃপক্ষ এই অনিয়ম বন্ধ করে তাদের ভোগান্তি লাঘব করবে।



