বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণে আগ্রহী ৫৭% জাপানি কোম্পানি, তবে ঝুঁকি উদ্বেগও রয়েছে
বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণে আগ্রহী ৫৭% জাপানি কোম্পানি

বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণে আগ্রহী ৫৭% জাপানি কোম্পানি, তবে ঝুঁকি উদ্বেগও রয়েছে

জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) সাম্প্রতিক এক জরিপে উঠে এসেছে যে বাংলাদেশে কাজ করা অর্ধেকের বেশি বা ৫৭ শতাংশ জাপানি কোম্পানি আগামী এক-দুই বছরে তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে চায়। স্থানীয় বাজারে পণ্য ও সেবার চাহিদা বৃদ্ধি এই আগ্রহের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তবে, জাপানি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাংলাদেশের ব্যবসার পরিবেশ নিয়ে বরাবরের মতোই উদ্বেগ বিদ্যমান রয়েছে।

স্থানীয় চাহিদা বৃদ্ধি ও সুযোগ-সুবিধা

জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশে জাপানি পণ্যের বাজার সম্প্রসারিত হচ্ছে, যেখানে আগে আমদানিনির্ভরতা ছিল, সেখানে এখন অনেক কোম্পানি একক বা যৌথ মালিকানায় কারখানা স্থাপন করছে। ৬৭ শতাংশ জাপানি কোম্পানি স্থানীয় বাজারে চাহিদা বৃদ্ধিকে ব্যবসা বিস্তারের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। অন্যান্য কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • রপ্তানি বৃদ্ধির সুযোগ
  • প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানির তুলনায় ভালো প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান
  • দামি বা বিশেষ পণ্যের প্রতি আগ্রহ
  • দক্ষ মানবসম্পদের সহজলভ্যতা

তবে, প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা বৃদ্ধি বা অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ কমানো নিয়ে বিনিয়োগকারীদের ইতিবাচক ধারণা সীমিত বলে জানা গেছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রধান ঝুঁকি: রাজনৈতিক অস্থিরতা

জরিপে অংশগ্রহণকারী ৯৪ শতাংশ জাপানি কোম্পানি বাংলাদেশে ব্যবসা পরিবেশের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হিসেবে রাজনৈতিক বা সামাজিক অস্থিরতাকে চিহ্নিত করেছে। গত বছরও এই বিষয়টি শীর্ষ ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে দেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অস্থিরতা বৃদ্ধি পায়, যা জরিপকালে বিদ্যমান ছিল। যদিও ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ায় আশা করা হচ্ছে যে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।

অন্যান্য উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে:

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  1. কর-সংক্রান্ত জটিলতা ও সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া
  2. স্থানীয় সরকারের নীতিমালার অস্পষ্টতা
  3. অনুমতি ও লাইসেন্স প্রাপ্তিতে দীর্ঘসূত্রতা
  4. আইনের প্রয়োগ ও পরিচালনায় অনিশ্চয়তা

সুবিধা ও মুনাফার পূর্বাভাস

জাপানি কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের পাঁচটি বড় সুবিধার কথা উল্লেখ করেছে, যার মধ্যে সস্তা শ্রম (৭৭.৪%) এবং বাজার সম্ভাবনা (৫৬.৬%) শীর্ষে রয়েছে। তবে, বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের পর সস্তা শ্রমের সুবিধা হ্রাস পেতে পারে।

মুনাফার পূর্বাভাস সম্পর্কে জরিপে দেখা গেছে যে প্রায় ৪৫ শতাংশ জাপানি কোম্পানি ২০২৬ সালে মুনাফা বৃদ্ধির আশা করছে, ৪৫ শতাংশ স্থিতিশীলতা এবং ৯.৫ শতাংশ হ্রাসের শঙ্কা প্রকাশ করেছে। ২০২৫ সালে মুনাফার আশা করা কোম্পানির সংখ্যা ৫০.৩% এ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ২০২৪ সালের ৪২% থেকে বেশি।

বিশেষজ্ঞ মতামত ও সুপারিশ

বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ উল্লেখ করেছেন যে জাপান বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার, যারা উন্নয়ন সহযোগিতা থেকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির দিকে এগোচ্ছে। তিনি বলেন, "ব্যবসা সম্প্রসারণে ইতিবাচক মনোভাব আশাব্যঞ্জক, কিন্তু প্রকৃত বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে নীতিগত জটিলতা, প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা ও ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।"

জরিপটি গত বছরের আগস্ট-সেপ্টেম্বরে পরিচালিত হয়েছিল, যেখানে বাংলাদেশে কাজ করা ৫৯টি জাপানি ও অংশীদারি কোম্পানি অংশ নিয়েছে। এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ৬৭ শতাংশ জাপানি কোম্পানি লাভের আশা করেছে, বিশেষ করে চীন ও ভারতেও ব্যবসা সম্প্রসারণের আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে।