ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় কর্মজীবীদের ফেরা, বাড়তি ভাড়ার অভিযোগ
পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা সাত দিনের ছুটি শেষে আজ মঙ্গলবার (২৪ মার্চ ২০২৬) প্রথম কর্মদিবসে রাজধানী ঢাকা কর্মমুখর হয়ে উঠেছে। সকাল থেকেই কর্মজীবী মানুষ ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন, তবে ফেরার পথে গণপরিবহনে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অফিসপাড়ায় কর্মব্যস্ততা
সচিবালয়সহ সব সরকারি-বেসরকারি অফিস, ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক কেন্দ্রবিন্দু সচিবালয়, মতিঝিল ও কারওয়ান বাজার এলাকায় কর্মজীবী মানুষের পদচারণায় অফিস পাড়া মুখরিত হয়ে উঠেছে। দীর্ঘ ছুটির আলসেমি কাটিয়ে নতুন উদ্যমে কাজে ফিরছেন নগরবাসী।
সরেজমিনে দেখা গেছে, অফিস খোলার দিনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, সচিবসহ সব স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কুশল বিনিময় করছেন। অনেককে কোলাকুলি করতেও দেখা গেছে, যা ঈদের আনন্দের ছোঁয়া বজায় রেখেছে।
গণপরিবহনে যাত্রী ভিড়
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে গত কয়েকদিনের শুনশান নীরবতা ভেঙে আজ গণপরিবহনের সংখ্যা বেড়েছে। রামপুরা, বাড্ডা, মালিবাগ, শাহবাগ ও ফার্মগেট এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকেই অফিসগামী যাত্রীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। গত কয়েকদিনের যাত্রীখরা কাটিয়ে বাসগুলোতে উপভোগ্য ভিড় থাকায় পরিবহন শ্রমিকদের মাঝেও স্বস্তি দেখা গেছে।
সকাল থেকেই গাবতলীতে যাত্রীদের ভিড় ছিল, তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় কমতে শুরু করেছে। কাউন্টারগুলো সূত্র জানিয়েছে, সকালে ঢাকায় ফেরা লোকজনের বেশ চাপ ছিল এবং বিকেল থেকে এই চাপ আরও বাড়তে পারে।
বাড়তি ভাড়ার অভিযোগ
ঈদের আগে গ্রামের পথে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ যেমন ছিল, ফেরার পথেও একই চিত্র দেখা গেছে। সকাল ১০টা থেকে সোয়া ১১টার মধ্যে গাবতলীতে ফেরা যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অধিকাংশ যাত্রী জানিয়েছেন, বাড়তি ভাড়া না দিলে টিকিট মেলেনি। কর্মস্থলে যোগ দিতে বাধ্য হয়ে তারা অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ফিরেছেন।
এই পরিস্থিতিতে যাত্রীদের অসুবিধা বাড়ছে, যদিও কর্তৃপক্ষের তদারকি বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ঢাকার কর্মজীবীদের ফেরার এই ধারা আগামী কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে, যা শহরের স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে।



