নাটোরে তেল বিক্রি করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি: মহাসড়ক অবরোধে উত্তাল পরিস্থিতি
নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম উপজেলার ‘বনপাড়া পাটোয়ারী ফিলিং স্টেশনে’ রাতের আঁধারে গোপনে প্রায় ২ হাজার ৬০০ লিটার পেট্রোল বিক্রি করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ ভোক্তারা বুধবার (৮ এপ্রিল) সকাল ১১টা থেকে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ জানান।
দীর্ঘ যানজট ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ
মহাসড়ক অবরোধের ফলে এলাকার দু’পাশে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়, যা স্থানীয় যাতায়াতকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তিনি অবরোধকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে সড়ক থেকে সরিয়ে নেন, যাতে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে পারে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত ও জরিমানা
ইউএনও লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌসের নেতৃত্বে একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। তদন্তে জানা যায়, ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে মঙ্গলবার রাতে গোপনে বিপুল পরিমাণ পেট্রোল অন্যত্র বিক্রি করেছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৪৫ ধারা অনুযায়ী, প্রতিশ্রুত পণ্য বা সেবা যথাযথভাবে সরবরাহ না করার অভিযোগে ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ফিলিং স্টেশনের মজুদ ও কর্তৃপক্ষের ভূমিকা
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফিলিং স্টেশনটির স্বত্তাধিকারী ডা. সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী, যিনি আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত) সাবেক সংসদ সদস্য এবং জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে পরিচিত। উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, স্টেশনে আগে ৭০০ লিটার পেট্রোল মজুদ ছিল এবং গত ৬ এপ্রিল নতুন বরাদ্দের ৩ হাজার লিটার আনার পর মোট মজুদ দাঁড়ায় ৩ হাজার ৭০০ লিটার।
কিন্তু কর্তৃপক্ষ ডেলিভারি মেশিনের নজেল নষ্ট দেখিয়ে সাধারণ ভোক্তাদের কাছে পেট্রোল বিক্রি বন্ধ রাখে। সরকারি বিধি অনুযায়ী, উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়ে ট্যাগ কর্মকর্তার তত্ত্বাবধায়নে তেল বিক্রি করতে হবে, যা তারা পালন করেনি।
প্রশাসনের সতর্কবার্তা
ইউএনও লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, ‘তেল নিয়ে কোনোরকম অবৈধ কারসাজি হলে প্রশাসন সেখানে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির দায়ে বনপাড়া পাটোয়ারী ফিলিং স্টেশনকে জরিমানা করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে নজরদারি বাড়ানো হবে।
এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে তেলের সরবরাহ ও ভোক্তা অধিকার নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, যা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।



