সিলেটের শাহজালাল মাজারের সিলগালা ডেগ ও দানবাক্স থেকে ৪৭ লাখ টাকা উদ্ধার
শাহজালাল মাজারের সিলগালা ডেগ ও দানবাক্সে ৪৭ লাখ টাকা

সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে ১৮ দিন পর দ্বিতীয়বারের মতো জেলা প্রশাসনের সিলগালা করা ঐতিহাসিক ডেগ এবং নতুন স্থাপন করা দানবাক্স খুলে ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা পাওয়া গেছে। শনিবার (১১ জুলাই) বেলা সোয়া ১১টার পর থেকে মাজার প্রাঙ্গণে টাকা গণনার কাজ শুরু হয়, যা সন্ধ্যা ৭টার দিকে শেষ হয়। হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজার মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা গণনার কাজে অংশ নেন।

টাকা গণনা ও বৈদেশিক মুদ্রা উদ্ধার

গণনা শেষে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এবং মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক পরিচালনার স্বচ্ছতা আনতে গঠিত কমিটির সদস্য আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘ডেগ ও নতুন দানবাক্স খুলে ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণ ও রৌপ্যও পাওয়া যায়। এসব অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার জেলা প্রশাসকের নামে খোলা ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হবে।’

তিনি জানান, বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যে রয়েছে সৌদি আরবের ১৩৫ রিয়াল, যুক্তরাষ্ট্রের ২০ ডলার, ভারতের ২ হাজার ৫৩২ রুপি, কাতারের ২২ দিরহাম, মালয়েশিয়ার ৬ রিঙ্গিত, হংকংয়ের ২০ ডলার, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২০ ইউরো, ওমানের ১ দশমিক ৪৫০ দিনার, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৫৪ দশমিক ২০ দিরহাম, ইন্দোনেশিয়ার ৪ হাজার রুপিয়াহ, পাকিস্তানের ৬০ রুপি এবং সিঙ্গাপুরের ১০ ডলার। এ ছাড়া দানবাক্সে ৯ গ্রাম স্বর্ণ, ১০ গ্রাম স্বর্ণসদৃশ বস্তু এবং ৩৯ দশমিক ৪ গ্রাম রৌপ্য পাওয়া গেছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গরু-ছাগল ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ

পাশাপাশি একটি গরু ও ৬৫টি ছাগল পাওয়া গেছে। এর মধ্যে গরু ও ৪০টি ছাগল রান্না করে মাজারের ভক্ত ও অনুরাগীদের খাওয়ানো হয়েছে। ২৫টি ছাগল বিক্রি করা হয়েছে, যার বিক্রয়মূল্য ১ লাখ ১৫ হাজার ৪০৩ টাকা।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক পরিচালনার স্বচ্ছতা আনতে গঠিত কমিটির ওপর আস্থা রাখায় সিলেটবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘হজরত শাহজালালের (রহ.) মাজার, দরগাহ মসজিদ ও মাদ্রাসার পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গঠিত কমিটির পরবর্তী সভা আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে। ওই সভার সিদ্ধান্তের আলোকে এক মাসের মধ্যে আমরা এসব প্রতিষ্ঠানের অর্থ ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনায় একটা নীতিমালা চূড়ান্ত করবো। এর মধ্য দিয়ে অর্থের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবো।’

পূর্ববর্তী ঘটনা ও কমিটি গঠন

এর আগে গত ২২ জুন আটটি ডেগ ও দানবাক্স খুলে চার দিনে মোট ১৭ লাখ ৫৪৯ টাকা নগদ পাওয়া যায়। এ ছাড়া ৭ আনা স্বর্ণালঙ্কার এবং সৌদি ৫ রিয়ালের দুটি নোট পাওয়া গিয়েছিল। পরে জেলা প্রশাসকের ব্যবস্থাপনায় নতুন করে চালু করা একটি ব্যাংক হিসাবে এসব টাকা জমা রাখা হয়।

স্থানীয় প্রশাসন ও মাজার কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ জুন হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শনে যান সিলেটের তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। এ সময় তিনি মাজারের আয় ও ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেন। এর অংশ হিসেবে ১৮ জুন বিকালে মাজারে থাকা আগের দানবাক্স সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। পাশাপাশি মাজারে মানুষের দানের অর্থ রাখার জন্য থাকা ঐতিহাসিক তিনটি দানের ডেগ সিলগালা করা হয়।

বিতর্ক ও জেলা প্রশাসক বদলি

এ ঘটনার পর জেলা প্রশাসকের পক্ষে-বিপক্ষে বিস্তর আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়। কেউ জেলা প্রশাসকের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে অভিহিত করেন। আবার প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় দানবাক্স স্থাপনের বিষয়ে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ রকম আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে নেয় সরকার। সরকারের একাধিক মন্ত্রী অবশ্য জেলা প্রশাসক বদলির ঘটনাকে ‘রুটিন ওয়ার্ক’ বলে মন্তব্য করেছিলেন।

এরপর হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার ইস্যুতে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের উদ্যোগে গত ২৬ জুন সিলেট সার্কিট হাউসে এক সভা হয়। সেখানে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক পরিচালনায় স্বচ্ছতা আনতে ১৩ সদস্যের কমিটি হয়। আজ ওই কমিটির উদ্যোগেই প্রথমবারের মতো মাজারের দানের টাকা গণনার কাজ শুরু হয়।