২০২৬ বিশ্বকাপ: আফ্রিকার ফুটবলারদের যুক্তরাষ্ট্রে জামানতের সম্ভাবনা
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া আফ্রিকার পাঁচটি দেশের ফুটবলারদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য বড় অঙ্কের জামানত বা বন্ড জমা দিতে হতে পারে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের 'ভিসা বন্ড পাইলট প্রোগ্রাম' এর আওতায় আলজেরিয়া, কেপ ভার্দে, সেনেগাল, আইভরি কোস্ট ও তিউনিসিয়ার নাগরিকদের এই শর্ত পূরণ করতে হবে। সেনেগালের স্টার সাদিও মানের মতো খেলোয়াড়রাও এই নিয়মের মুখোমুখি হতে পারেন।
ভিসা বন্ড নীতির বিস্তারিত
যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নতুন এই নীতি অনুযায়ী, বি-১ ও বি-২ ভিসায় প্রবেশকারী নির্দিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকদের ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত জামানত দিতে হবে। আগামী ২ এপ্রিল থেকে এই নীতি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। দ্য অ্যাথলেটিক এর প্রতিবেদন অনুসারে, বিশ্বকাপের মতো বড় ক্রীড়া আসরের জন্য খেলোয়াড়দের অব্যাহতির কোনো স্পষ্ট বিধান এই প্রোগ্রামে উল্লেখ নেই।
ফিফা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে অংশগ্রহণকারী দলের খেলোয়াড়, কোচ ও কর্মকর্তাদের এই জামানত থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। তবে এখন পর্যন্ত স্টেট ডিপার্টমেন্ট বা ফিফা কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা দিতে পারেনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিশ্বকাপ প্রস্তুতিমূলক কর্মশালায় দলগুলো এই বিষয়টি ফিফার কাছে উত্থাপন করেছে।
দেশভিত্তিক পরিস্থিতি
এই পাঁচটি আফ্রিকান দলের সবকটিকে গ্রুপ পর্বে যুক্তরাষ্ট্রে খেলতে হবে না। আলজেরিয়া ও কেপ ভার্দের সব ম্যাচ মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত হবে, তাই তাদের দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠলে তবেই যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রয়োজন হবে। অন্যদিকে, তিউনিসিয়ার একটি ম্যাচ এবং সেনেগাল ও আইভরি কোস্টের দুটি করে ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে নির্ধারিত রয়েছে।
স্টেট ডিপার্টমেন্টের বিবৃতি অনুযায়ী, প্রতিটি ভিসা আবেদন পৃথকভাবে মূল্যায়ন করা হবে এবং জামানত থেকে অব্যাহতির জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া নেই। তবে কনস্যুলার কর্মকর্তারা ভ্রমণের উদ্দেশ্য ও কর্মসংস্থানের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। দর্শকদের জন্য এই নিয়ম থেকে রেহাই পাওয়ার কোনো আলোচনা এখনো হয়নি।
বিশ্বকাপের সময়সূচি ও প্রভাব
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে ২০২৬ বিশ্বকাপ ১১ জুন শুরু হয়ে ১৯ জুলাই ফাইনাল ম্যাচের মাধ্যমে শেষ হবে। এই ভিসা বন্ড নীতি টুর্নামেন্টের আগে একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে, বিশেষ করে আফ্রিকান দলগুলোর জন্য। ফিফার চেষ্টা সত্ত্বেও, শেষ পর্যন্ত খেলোয়াড়দের জামানত দিতে হবে কিনা তা এখনো অনিশ্চিত থেকে যাচ্ছে।



