২০২৬ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত টিকিট বিক্রির ধাপ শুরু হচ্ছে ১ এপ্রিল
বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা বুধবার ঘোষণা করেছে যে, ২০২৬ বিশ্বকাপের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টিকিট বিক্রির ধাপ আগামী ১ এপ্রিল থেকে শুরু হবে। এই 'লাস্ট-মিনিট' বিক্রির ধাপটি টুর্নামেন্ট শেষ হওয়া পর্যন্ত, অর্থাৎ ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত, খোলা থাকবে। তবে এই ধাপে কতটি টিকিট পাওয়া যাবে, সে সম্পর্কে ফিফা কোনো সুনির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ করেনি।
টিকিট বিক্রির পদ্ধতি ও পূর্ববর্তী ধাপের তথ্য
ফিফার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই ধাপে টিকিট বিক্রি হবে ফার্স্ট-কাম, ফার্স্ট-সার্ভড ভিত্তিতে। টিকিটগুলো ধারাবাহিকভাবে বিক্রির জন্য প্রকাশ করা হবে, যার মধ্যে একই দিনের ম্যাচের টিকিটও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। এটি বিশ্বকাপের চতুর্থ ও চূড়ান্ত অফিসিয়াল টিকিট বিক্রির ধাপ। ফিফা জানিয়েছে, পূর্ববর্তী ধাপগুলোতে ৫০ কোটি অনুরোধের মধ্যে ১০ লাখের বেশি টিকিট বিক্রি হয়েছে।
মোটামুটিভাবে ৭০ লাখ টিকিট বিক্রির আশা করা হচ্ছে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে ব্যবহৃত ১৬টি স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতার ভিত্তিতে নির্ধারিত। এই তিন দেশ যৌথভাবে ২০২৬ বিশ্বকাপ আয়োজন করবে, যা ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় আসর হিসেবে পরিচিত।
টিকিটের দাম নিয়ে বিতর্ক ও মামলা
তবে ফিফা টিকিটের দাম নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছে। ইউরোপের ফুটবল সমর্থকদের সংগঠন ফুটবল সাপোর্টার্স অব ইউরোপ (এফএসই) মঙ্গলবার ইউরোপীয় কমিশনের কাছে একটি মামলা দায়ের করেছে। তারা অভিযোগ করেছে যে ফিফা 'অতিরিক্ত টিকিটের দাম এবং অস্পষ্ট ও অন্যায্য ক্রয় শর্ত ও প্রক্রিয়া' চাপিয়ে দিয়ে তার একচেটিয়া অবস্থান অপব্যবহার করছে।
এফএসই দাবি করেছে, ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে ইউরোপীয় সমর্থকদের উপর এই ধরনের শর্ত আরোপ করেছে, যা ন্যায্য নয়। ফিফার সভাপতি জিয়ানি ইনফ্যান্টিনো টিকিটের দামকে 'পাগলাটে' চাহিদার ফল হিসেবে বর্ণনা করে এর পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন।
চাপের মুখে ফিফার পদক্ষেপ
চাপের মুখে ফিফা অফিসিয়াল সমর্থক ক্লাবগুলোর জন্য ৬০ ডলারের টিকিটের একটি বিশেষ বিভাগ তৈরি করেছে। তবে এফএসই-এর মতে, এই বিভাগের টিকিট সাধারণ জনগণের জন্য বিক্রি শুরু হওয়ার আগেই প্রায় শেষ হয়ে গেছে।
এছাড়াও, ফিফা বুধবার ঘোষণা করেছে যে তারা ২ এপ্রিল থেকে টিকিট পুনঃবিক্রি ও বিনিময়ের অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্ম পুনরায় চালু করবে। এই প্ল্যাটফর্মটিও সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে, কারণ এতে পুনঃবিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত টিকিটের দাম অত্যন্ত উচ্চ। যদিও ফিফা দাবি করে যে এটি একটি 'ফ্যান-টু-ফ্যান মার্কেট', যেখানে পুনঃবিক্রেতারা প্রতিটি টিকিটের প্রদর্শিত দাম নির্ধারণ করে এবং ফিফা এই বাজারে হস্তক্ষেপ করে না।
২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রি ও দাম নিয়ে এই বিতর্ক চলমান থাকলেও, ফুটবলপ্রেমীদের জন্য চূড়ান্ত ধাপে টিকিট পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ সমর্থক এই আসরে অংশ নিতে আগ্রহী, যা ফিফার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।



