নারী এশিয়ান কাপে বাংলাদেশের চূড়ান্ত লড়াই: উজবেকিস্তানের মুখোমুখি আজ
নারী এশিয়ান কাপে বাংলাদেশের চূড়ান্ত লড়াই

নারী এশিয়ান কাপে বাংলাদেশের চূড়ান্ত লড়াই: উজবেকিস্তানের মুখোমুখি আজ

আন্তর্জাতিক নারী দিবসের ঐতিহাসিক দিনে সিডনির অলিম্পিক স্টেডিয়ামে রেকর্ড ৬০ হাজার দর্শকের গর্জনের মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষ হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের ফুটবল ভক্তদের দৃষ্টি এখন পার্থের দিকে, যেখানে আজ বাংলাদেশ সময় বেলা তিনটায় নারী এশিয়ান কাপের গ্রুপ পর্বের চূড়ান্ত ম্যাচে উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। এই ম্যাচটি শুধু একটি গ্রুপ লড়াই নয়, বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনার সম্ভাবনাময় হাতছানি দিচ্ছে।

গাণিতিক সমীকরণে বাধা ফিলিপাইনের জয়

ঋতুপর্ণাদের স্বপ্নযাত্রার পথে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো জটিল গাণিতিক সমীকরণ। গত রাতে ইরানের বিপক্ষে ২-০ গোলে জয় পেয়ে ফিলিপাইন দল বাংলাদেশের জন্য কাঁটা বিছিয়ে দিয়েছে। ইরান জিতলে বা ড্র হলে বাংলাদেশের কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি হতো, কিন্তু ফিলিপাইনের জয়ের ফলে তারা তিন ম্যাচে ৩ পয়েন্ট ও -২ গোল গড় নিয়ে সেরা দুই তৃতীয় দলের দৌড়ে এগিয়ে গেছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ‘বি’ গ্রুপের প্রথম দুই ম্যাচে চীন ও উত্তর কোরিয়ার কাছে সাত গোল হজম করে সমীকরণে পিছিয়ে আছে।

উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের প্রত্যাশা

পার্থের এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলার ও অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার অনেকটাই নির্ভার ছিলেন। আফঈদা বলেন, ‘গ্রুপের শেষ ম্যাচে আমরা সবাই চেষ্টা করব সেরাটা দেওয়ার। আমাদের হারানোর কিছু নেই। আমরা প্রথমবার কোয়ালিফাই করেছি এশিয়ান কাপে, দেশকে প্রতিনিধিত্ব করেছি, এটাই অনেক গর্বের বিষয়।’ উজবেকিস্তান দল শারীরিক শক্তিতে এগিয়ে থাকলেও গতিতে কিছুটা ধীর, যা বাংলাদেশের মারিয়া-মনিকাদের জন্য সুযোগ তৈরি করতে পারে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কোচ ও প্রতিপক্ষের মূল্যায়ন

উজবেকিস্তানের কোচ কত্রিনা কুলবাইতে বাংলাদেশের লড়াই করার সামর্থ্যকে সম্মান জানিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশ তরুণ দল, তাদের অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। ১৯ বছর বয়সীদের পারফরম্যান্স চমৎকার। তাদের গোল করার সামর্থ্য আছে এবং বেশ কিছু ভালো খেলোয়াড়ও আছে।’ তিনি ঋতুপর্ণা–মনিকা চাকমাদের গতি এবং গোলকিপার মিলির প্রশংসা করেছেন। বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলার টুর্নামেন্টটিকে বড় শিক্ষা হিসেবে দেখছেন এবং উজবেকিস্তান ম্যাচ নিয়ে আশাবাদী।

কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্ন

বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে পারলে সেটি হবে বড় চমক। কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলে দলটি আবার সিডনি ফিরবে। তবে আপাতত মূল লক্ষ্য উজবেকিস্তানকে হারানো। এই ম্যাচকে পাখির চোখ করেই তারা অস্ট্রেলিয়ায় এসেছেন। জয়ের মাধ্যমে এশিয়ান মঞ্চে প্রথম জয়ের স্বাদ পাবে লাল-সবুজ মেয়েরা, যা নক আউটের দরজা খুললে খুবই ভালো, না খুললেও বড় অর্জন হবে।