বিদ্যমান করহার অপরিবর্তিত রেখে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধির কৌশল নির্ধারণ
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, বিদ্যমান করহার না বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বৃদ্ধি, কর ফাঁকি রোধ এবং কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে একটি সমন্বিত কৌশল নির্ধারণ করেছে সরকার। তিনি আজ রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন।
রেকর্ড রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ও ব্যয় পরিকল্পনা
ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর উল্লেখ করেন, চলতি অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সরকারের। এই অর্থ ব্যয় করা হবে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে। তিনি বলেন, সরকার কথার বদলে পরিসংখ্যান দিয়ে সাফল্য প্রমাণ করতে চায় এবং চলতি চতুর্থ প্রান্তিকে রাজস্ব আহরণ অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধির লক্ষ্য ও চ্যালেঞ্জ
উপদেষ্টা জানান, বর্তমান সরকার পূর্ববর্তী শাসনামলের রেখে যাওয়া ‘ধ্বংসপ্রাপ্ত’ অর্থনীতি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে, যেখানে বাংলাদেশ কর-জিডিপি অনুপাতের দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল দেশের অন্যতম। এ প্রেক্ষাপটে সরকারের লক্ষ্য বর্তমান মেয়াদে কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশে উন্নীত করা এবং দীর্ঘ মেয়াদে ২০৩৫ সালের মধ্যে তা ১৫ শতাংশে পৌঁছানো। তিনি বলেন, এ অর্জনের মাধ্যমে সরকার অতিরিক্ত দেশীয় বা বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভর না করে নিজস্ব কর্মসূচি বাস্তবায়নে সক্ষম হবে, যা জনমনে বিদ্যমান সংশয় দূর করবে।
অভ্যন্তরীণ সম্পদ বৃদ্ধির কৌশল ও পদক্ষেপ
সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার অন্যতম মূল উপাদান হিসেবে করহার না বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ সম্পদের পরিমাণ বাড়ানোর কথা উল্লেখ করেন তিনি। এ ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলোর উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে:
- কর ফাঁকি প্রতিরোধ ও এসআরও সংস্কৃতি বিলুপ্ত করা
- ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা
- জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ ও টাস্কফোর্স গঠন
তিনি বলেন, বাড়তি রাজস্ব ব্যবহার করে সরকার ফ্যামিলি কার্ডসহ যুগান্তকারী সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। পাশাপাশি ইমাম, মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের জন্য সহায়তা কর্মসূচিও চালু করা হয়েছে। এ ধরনের সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তা উদ্যোগ বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জিডিপি প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিতকরণ ও সুরক্ষা ব্যবস্থা
জিডিপি প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে সরকার পরিচালন ব্যয়ের পরিবর্তে মূলধনি ব্যয়ে (বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি–এডিপি) অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। এর আওতায় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য সংস্কার পথ
টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকার দুটি প্রধান পথে এগোচ্ছে:
- কাঠামোগত সংস্কার
- নীতিগত সংস্কার
জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোর মতো খাতে করের অর্থ ব্যয় নিশ্চিত করা হবে, যাতে নাগরিকেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর দিতে উৎসাহিত হন।
দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যমাত্রা ও জনগণের প্রতিফলন
ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ১৮০ দিন, এক বছর ও পাঁচ বছরের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। অন্তর্বর্তীকাল থেকে নির্বাচিত সরকারের দিকে উত্তরণের প্রক্রিয়ায় এমন একটি অর্থনীতি গড়ে তোলাই লক্ষ্য, যা সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে। তিনি বলেন, সরকারের এই পরিকল্পনা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক উন্নয়নের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।



