ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক নারী দিবসে যুব-নেতৃত্বাধীন সংলাপ অনুষ্ঠিত
ঢাবিতে আন্তর্জাতিক নারী দিবসে যুব সংলাপ, জোর অধিকার ও ন্যায়বিচারে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপনে যুব-নেতৃত্বাধীন সংলাপের আয়োজন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী ও জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগ আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ উপলক্ষে একটি যুব-নেতৃত্বাধীন সংলাপের আয়োজন করেছে। 'ভিজ্যুয়ালাইজিং ইকুয়ালিটি: রাইটস জাস্টিস অ্যাকশন ফর অল উইমেন অ্যান্ড গার্লস' শীর্ষক এই অনুষ্ঠানটি ব্রিটিশ কাউন্সিলে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয়।

বহুস্তরীয় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতামূলক উদ্যোগ

এই বিশেষ আয়োজনে জাতিসংঘ বাংলাদেশ এবং নারী অগ্রগতি ও জেন্ডার সমতা বিষয়ক স্থানীয় পরামর্শক গ্রুপ (এলসিজি ওয়েজ) সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে। অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ, কূটনীতিক এবং উন্নয়ন অংশীদাররা অংশগ্রহণ করেন। তারা ২০২৬ সালের বৈশ্বিক নারী দিবসের প্রতিপাদ্য 'সকল নারী ও কন্যার জন্য অধিকার, ন্যায়বিচার ও পদক্ষেপ' নিয়ে আলোচনা ও প্রতিফলন প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের বক্তব্য

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক রাষ্ট্রমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জেন্ডার সমতা অর্জনে প্রাতিষ্ঠানিক অঙ্গীকার ও সামাজিক পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, 'প্রতিটি বাংলাদেশীর দায়িত্ব রয়েছে প্রতিটি বাড়ি, রাস্তা ও পাড়ায় সামগ্রিক মনোভাব ও সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতা পরিবর্তনের। সরকারেরও তার প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে দায়িত্ব রয়েছে।'

জাতিসংঘ নারী প্রতিনিধি ও কূটনীতিকদের মতামত

জাতিসংঘ নারীর ডেপুটি প্রতিনিধি নবনিতা সিনহা জেন্ডার সমতা ছাড়া ব্যাপক উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করেন এবং পুরুষদেরকে সক্রিয়ভাবে এই আন্দোলনে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, 'জেন্ডার সমতার এই সংগ্রামে আপনারা সমান অংশীদার। আমরা চাই আপনারা চ্যাম্পিয়ন ও মিত্র হোন।'

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ডেলিগেশনের ভারপ্রাপ্ত কূটনৈতিক প্রধান বৈবা জারিনা বলেন, 'আমরা যে বক্তৃতাগুলো শুনলাম তা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে নীতি তখনই সবচেয়ে শক্তিশালী হয় যখন এটি সেইসব মানুষের কথা শোনে যারা এর পরিণতি বহন করবে।'

সুইডেনের বাংলাদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস উল্লেখ করেন যে জেন্ডার সমতা বিশ্বব্যাপী একটি অসমাপ্ত এজেন্ডা হিসেবে রয়ে গেছে। তিনি বলেন, 'জেন্ডার সমতা বিশ্বের কোথাওই সম্পূর্ণ পণ্য নয়।'

শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত বক্তৃতা ও আলোচনা

অনুষ্ঠানের ইন্টারেক্টিভ সেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্ত সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা প্রদান করেন। তারা দৈনন্দিন জীবনের জেন্ডার পক্ষপাত, সীমাবদ্ধ সামাজিক নিয়ম এবং ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে নারীদের মুখোমুখি হওয়া চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন।

শিক্ষকবৃন্দের অংশগ্রহণ ও বিশেষ প্রদর্শনী

অনুষ্ঠানে নারী ও জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক সাবিহা ইয়াসমিন রোজি ও অধ্যাপক তানিয়া হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক ড. তাইয়াবুর রহমান এবং ব্রিটিশ কাউন্সিলের পরিচালক স্টিফেন ফোর্বস বক্তব্য রাখেন।

এছাড়াও ব্রিটিশ কাউন্সিলে জাতিসংঘ নারীর তত্ত্বাবধানে নারী ক্ষমতায়ন ও জেন্ডার সমতা বিষয়ক কার্টুন ও অন্যান্য চাক্ষুষ শিল্পকর্মের একটি প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। এই প্রদর্শনীটি নারী অধিকার ও সমতা বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশে জেন্ডার সমতা অগ্রগতির প্রতিশ্রুতি

এলসিজি ওয়েজের প্রতিনিধিরা শিক্ষার্থীদের উপস্থাপনার পর তাদের প্রতিফলন শেয়ার করেন এবং বাংলাদেশে জেন্ডার সমতা ও নারী ক্ষমতায়ন প্রচারে তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। এই আয়োজনটি বাংলাদেশে নারী অধিকার ও সমতা বিষয়ক বহুমাত্রিক আলোচনা ও পদক্ষেপের একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।