ফুটবলের জীবন্ত কিংবদন্তি লিওনেল মেসির পছন্দের পানীয় এখন বিশ্বজুড়েই আলোচনায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটিজেনদের মাঝে চলছে আলোচনার ঝড়। মেসিকে মাঝে মধ্যেই স্ট্র দিয়ে এ পানীয়ে চুমুক দিতে দেখা যায়। তবে এটি কোনো বাজার চলতি এনার্জি ড্রিংক নয়; দক্ষিণ আমেরিকার সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এর নাম।
মেসির পানীয়টির নাম কী?
মেসি যা পান করেন আয়েস করে, সেটি একেবারেই কোনো সাধারণ এনার্জি ড্রিংক নয়। এর নাম ‘ইয়ারবা মাতে’। দক্ষিণ আমেরিকার ঐতিহ্যবাহী পানীয়টি জড়িয়ে রয়েছে সে দেশের সংস্কৃতির সঙ্গেও। নকশা কাটা কাঠ ও ধাতু দিয়ে তৈরি পাত্রে রাখা পানীয়ে স্ট্র ডুবিয়ে আয়েস করে পান করছেন মেসি— এমন ছবি বহুবারই সামনে এসেছে। সম্প্রতি বিশ্বজুড়ে আলোচনাতেও উঠে এসেছে সেই পানীয়ের নাম।
ইয়ারবা মাতে কী?
ইয়ারবা মাতে হচ্ছে ভেষজ পানীয়, যা ইয়ারবা মাতে নামে এক ধরনের গাছের শুকনো পাতা থেকে তৈরি হয়। পানীয়টি যে পাত্রে ঢালা হয়, তার নামও ‘মাতে’। সেটি তৈরি হয় লাউয়ের শুকনো খোলা দিয়ে। খোলাটিকে বিশেষ আকারে কেটে তার সঙ্গে কাঠ ও ধাতু মিশিয়ে বিশেষ রকম গড়ন দেওয়া হয়। মুড়িয়ে দেওয়া হয় চামড়ায়। আর সিলিকন ও কাচের নকশা কাটা থাকে পাত্রে। এখনকার দিনে অবশ্য শুধু কাঠ বা সিরামিক দিয়েও এমন পাত্র তৈরি করা হয়। পাত্রটি এমনভাবে তৈরি হয়, যাতে এটি থার্মোফ্লাক্সের মতো কাজ করতে পারে। অর্থাৎ পাত্রে পানীয়টি ঢাললে সেটি দীর্ঘক্ষণ গরম থাকতে পারে।
পান করার নিয়ম
পানীয়টি পান করারও নিয়ম আছে। পাত্রে এক বিশেষ ধরনের ধাতব স্ট্র থাকে, যাকে বলা হয় ‘বম্ববিলা’। সেটি কেবল স্ট্র নয়; এর নিচের অংশে লাগানো থাকে ছাঁকনি বা ফিল্টার, যাতে পানীয়টি স্ট্রয়ের মধ্যেই ছাঁকা হয়ে তার পর মুখে আসে।
ইয়ারবা মাতে তৈরির পদ্ধতি
ইয়ারবা মাতে পানীয়টি তৈরি করা হয় বিশেষ উপায়ে। চা যেভাবে বানায়, মাতে বানানোর পদ্ধতি তার থেকে কিছুটা আলাদা। প্রথমে ইয়ারবা মাতের শুকনো পাতাগুলো সামান্য ঠান্ডা পানি দিয়ে ভিজিয়ে নিতে হয়। তারপর পাতাগুলো ওই পাত্রে ঢেলে স্ট্র বসিয়ে ওপর থেকে ধীরে ধীরে গরম পানি ঢালা হয়। মাতে তৈরির জন্য ফুটন্ত পানি ব্যবহার করা হয় না। সাধারণত হালকা গরম পানি ব্যবহার করা হয়। এরপর স্ট্র দিয়ে চুমুক দিয়ে পানীয়টি ধীরে ধীরে পান করা হয়। স্ট্রতে ফিল্টার থাকায় পাতার কুচিগুলো তাতে মেশে না। ছেঁকে বিশুদ্ধ পানীয়টিই মুখে আসে। আবার লেবু ও কমলার খোসা, পুদিনাপাতা, চিনি, মধু, কফির গুঁড়ো মিশিয়েও অনেকে মাতে পান করে থাকেন।
কোথায় জনপ্রিয়?
সাধারণত আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে, প্যারাগুয়ে ও ব্রাজিলে এ পানীয় সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এছাড়া সিরিয়া ও লেবাননেও এটি পান করার রেওয়াজ আছে। দক্ষিণ আমেরিকার আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষেরা মাতে পান করতেন। পানীয়টির উপকারিতা দেখেই এটি খাওয়ার চল শুরু হয়।
স্বাস্থ্য উপকারিতা
চা কিংবা কফির মতো এতে বেশিমাত্রায় ক্যাফেইন নেই। তাই মাতে পান করলে হজমের সমস্যা কিংবা ঘুমের সমস্যা হয় না। এ পানীয়টি শরীর ঠান্ডা করতে সাহায্য করে থাকে। এছাড়া ভেষজ পানীয়টি পান করলে পেশির জড়তা কেটে যায়, শরীর চনমনে হয় এবং অনেক বেশি সতেজ লাগে। বিশেষ করে ক্লান্তি দূর হয়। আবার ব্যায়াম বা ভারি শরীরচর্চার পর পানীয়টি পান করলে পেশির ক্লান্তি কেটে যায় এবং খুব দ্রুত ওজন কমে যায়। আর মাতের অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য আছে। মাতে পান করে ব্যাক্টেরিয়া, ভাইরাস কিংবা ছত্রাকের সংক্রমণ প্রতিরোধ করা যায়। এছাড়া রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে পারে মাতে। তাই এ পানীয়টি ডায়াবেটিসের রোগীরাও নিশ্চিন্তে পান করতে পারেন।



