মোবাইলের স্ক্রিনে হারিয়ে যাওয়া দিন: কবিতায় একাকিত্ব ও সময়ের গতিপথ
ঢ্যাঙা ঢ্যাঙা পায়ে পার হয়ে যায় আরও একটি দিন, যেন এক নির্জন শতাব্দীর মতো অনুভূত হয়। মোবাইলের স্ক্রিনে তাকালে সময়ের হিসাব হারিয়ে যায়, দিনের নাম বা তারিখের স্মৃতি ঝাপসা হয়ে আসে। টাইম ল্যাপস ভিডিওতে মেঘেদের মতো একেকটি দিন দূরে সরে যায়, আর কবি বহুগামীর মতো প্রতিটি মুহূর্তের প্রেমে পড়ে যান।
দিন হারানোর চক্র ও মহাকালের প্রশ্ন
একটি দিনকে মিস করতে করতে আরেকটি নতুন দিন মিস করার সময় চলে আসে, এইভাবেই কবির দিনকাল কেটে যাচ্ছে। তিনি মহাকালকে জিজ্ঞাসা করেন, "তোমার কী খবর? তুমিও কি অনেক দিন ধরে আসব আসব করতে করতে আসার আগেই হারিয়ে যাবে?" এই সংলাপে কবি অন্যকে হারানোর ব্যথা ভুলতে ভুলতে মহাকালকেও হারানোর সম্ভাবনার কথা ভাবেন, যেন মহাশূন্যের নীলিমায় সবুজ টিয়া হয়ে ঢুকে পড়বেন।
আলস্যের দিন ও একাকিত্বের ভেড়া
কিছু কিছু দিন আলস্যের সাইনবোর্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে, যেখানে অবসরের পাখি এসে বসে। তখন এক পাল একাকিত্বের ভেড়া কবির সূর্যকরোজ্জ্বল সরিষাখেতে ঢুকে পড়তে চায়, আর ঘুড়ির লাটাই দিয়ে মেঘ রোদ্দুরের ফলা সরিয়ে নামিয়ে আনে। কবি ভেড়াগুলোকে লাঠি নিয়ে তাড়িয়ে দেন বহুদূর তেপান্তরে, যাতে তারা তার স্বপ্ন, সাহস ও আনন্দের গাছগুলো খেয়ে ফেলতে না পারে।
ভেড়াদের প্রত্যাবর্তন ও পৃথিবীর কান্না
কিন্তু ভেড়াগুলোকে তাড়িয়ে দিয়ে ফিরে আসতেই কবি দেখেন, তারা এবার ফিরে এসেছে লেফট-রাইট করতে করতে সাজপোশাক পরা আর্মি হয়ে। আলস্যের দিনের বারোটা বাজিয়ে পৃথিবী নামের কবির শিশুকন্যা তীব্র শব্দ করে কেঁদে ওঠে। তাকে কোলে নিয়ে ছাদে হাঁটতে হাঁটতে কবি ভাবেন, পৃথিবী তো কাঁদতেই থাকবে, কখনো আবার হাসবে—এর মধ্যেই তাকে টিকে থাকতে হবে, যেভাবে মাটির গভীরে স্ট্র দিয়ে গাছ শুষে নেয় জীবনের মিষ্টি রস।



