রবীন্দ্রনাথের 'শেষের কবিতা' নিয়ে পাঠচক্রে রংপুর বন্ধুসভার আলোচনা
রংপুর বন্ধুসভার 'শেষের কবিতা' পাঠচক্রে আলোচনা

রবীন্দ্রনাথের 'শেষের কবিতা' নিয়ে রংপুর বন্ধুসভার পাঠচক্রে আলোচনা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী উপন্যাস 'শেষের কবিতা' নিয়ে একটি মনোজ্ঞ পাঠচক্রের আয়োজন করেছে রংপুর বন্ধুসভা। এই অনুষ্ঠানটি ৫ মার্চ কারমাইকেল কলেজের স্বাধীনতা স্মারক ভাস্কর্য প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বইটির গভীর দার্শনিক ও সাহিত্যিক মূল্য নিয়ে আলোচনা করা হয়।

প্রেম ও বিচ্ছেদের কাব্যিক উপস্থাপনা

পাঠ আলোচনায় বন্ধু সোহাগ দাস উল্লেখ করেন যে, 'শেষের কবিতা' উপন্যাসে রবীন্দ্রনাথ প্রেমের একটি অনন্য দিক তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, 'কাছে আসার তাড়নাই যে মানুষকে দূরে ঠেলে দেয়, তার একটি বাস্তবধর্মী উপস্থাপনা এই উপন্যাস।' এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বইটির মধ্যে লুকিয়ে থাকা মানবিক সম্পর্কের জটিলতাকে স্পষ্ট করেছেন।

অন্যদিকে, বন্ধু মাইমুনা তাঁর বক্তব্যে প্রেমের স্বার্থকতা নিয়ে আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, 'প্রেমের পরিণতি সব সময় সংসার বা বিবাহ পর্যন্ত যায় না। কিছু সময় না পাওয়াতেই প্রেমের স্বার্থকতা লুকিয়ে থাকে। জীবনের এই কঠিন বাস্তবতাকে মেনে নিয়েই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর উপন্যাসটি শেষ করেছেন।' এই আলোচনা উপন্যাসটির দার্শনিক গভীরতা ও জীবনবোধকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

পাঠচক্রের বিশেষ অতিথি ও অংশগ্রহণকারী

এই পাঠচক্রে মূল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর বন্ধুসভার পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক সৈকত খন্দকার। তাঁর উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে আরও সমৃদ্ধ করে, কারণ তিনি বইটির সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

এছাড়াও, অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণ সম্পাদক রুদ্র চৌধুরী ও বন্ধু মানিক কুমার পঙ্কোজসহ আরও অনেক সদস্য অংশগ্রহণ করেন। তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ পাঠচক্রটিকে একটি জ্ঞানবর্ধক ও চিন্তা-উদ্দীপক অনুষ্ঠানে পরিণত করে।

রংপুর বন্ধুসভার এই কার্যক্রমটি স্থানীয় সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চাকে উৎসাহিত করার একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। এটি শুধুমাত্র একটি বই নিয়ে আলোচনা নয়, বরং একটি সম্প্রদায়ের মধ্যে সাহিত্যিক বিনিময় ও বুদ্ধিবৃত্তিক সংলাপের সুযোগ সৃষ্টি করেছে।