বইমেলায় শিশুপ্রহরে পাপেট শো ও বায়োস্কোপে মেতে উঠেছে শিশুরা
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে চলমান অমর একুশে বইমেলার শিশুপ্রহরে কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটারের পাপেট শো ও বায়োস্কোপে মেতে উঠেছে শিশুরা। শনিবার চতুর্থ শিশুপ্রহরে গিয়ে দেখা যায়, শিশুরা পাটির ওপর বসে অপেক্ষা করছে পাপেট শো দেখার জন্য। সামনের সারিতে বসা জোহান, অনুগল্পজয়ী, ওমর ও মোহসামার মতো অনেক শিশুই প্রথমবারের মতো মেলায় এসেছে, কেউবা আসে নিয়মিত।
পাপেট শোতে শিশুদের উচ্ছ্বাস
বেলা ১১টায় শুরু হয় পাপেট শো ‘বন ভ্রমণ’। পাপেট চরিত্র ব্লু ও আলো শিশুদের স্বাগত জানায় এবং দেশপ্রেমের বার্তা দেয়। শোতে গল্প বলে পাপেট চরিত্র ঐশ্বর্য, ঐতিহ্য ও ইতু। মায়াহরিণ, গাছ ও হালুমের মাধ্যমে শিশুদের বোঝানো হয় প্লাস্টিক দূষণ রোধ ও বন সংরক্ষণের গুরুত্ব। শিশুরা মুগ্ধ হয়ে দেখতে থাকে, কখনো হাততালি দেয়, কখনো চিৎকার করে। ‘আমরা সবাই রাজা...’ গান দিয়ে শেষ হয় শোটি।
আট বছর বয়সী তন্ময়ী ও তার তিন বছরের ছোট বোন মৃন্ময়ী মেলায় এসেছে তাদের বাবা বিশ্বজিৎ দত্তের সঙ্গে। বিশ্বজিৎ বলেন, ‘ওরা মেলায় আসতে খুবই উদগ্রীব ছিল। শুধু সপ্তাহে দুদিন নয়; বাচ্চারা যেতে পারে, আনন্দ করতে পারে—এমন আয়োজন বইমেলায় বছর জুড়েই থাকা উচিত।’
গল্পপাঠের আসর ও বায়োস্কোপের মজা
পাপেট শোর পর আয়োজন করা হয় গল্পপাঠের আসর। রেফায়েত আরা পল্লিকবি জসীমউদ্দীনের ‘তুমি কেন ঘষো আমি তাহা জানি’ গল্পটি শিশুদের শোনান। শিশুরা গল্পকথককে নানা প্রশ্ন করে এবং উৎসাহিত হয়। একজন শিশু বলে, ‘দুষ্টু লোক যদি আমার পিছু পিছু ঘোরে, আমি বলব—তুমি কেন ঘোরো, আমি তাহা জানি।’
অন্যদিকে, ‘এই বায়োস্কোপ, বায়োস্কোপ’—দয়াল চন্দ্রের হাঁক শুনে শিশুরা বায়োস্কোপের সামনে জড়ো হয়। বায়োস্কোপে দেখানো হয় ‘কুঁজো বুড়ির গল্প’। ওজিহা, সারা ও প্রিনন্তীর মতো শিশুরা বাক্সে চোখ লাগিয়ে গল্প দেখে মগ্ন হয়। আট বছর বয়সী প্রিয়ন্তী বায়োস্কোপ শেষে মাকে গল্প শোনায়, ‘ওইখানে আছে কুঁজো বুড়ি, তার দুটো কুকুর ছিল। ওই দুটো কুকুর শিয়ালের হাত থেকে কুঁজো বুড়িকে বাঁচিয়েছে।’
শিশুদের সৃজনশীল বিকাশে উদ্যোগ
কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাতা আসাদুজ্জামান আশিক বলেন, ‘এই শোর মাধ্যমে আমরা শিশুদের বই পড়তে উৎসাহিত করতে চাচ্ছি, যাতে তাদের সৃজনশীল বিকাশ ঘটে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে শিশুরা যেন মোবাইল থেকে দূরে থাকে। তারা যেন বই পড়ে, মাঠে খেলে।’ শিশুদের উৎসাহ দেখে আয়োজকেরা শোর সংখ্যা বাড়িয়েছেন, এখন প্রতি শো শেষে এক ঘণ্টা বিরতি দিয়ে রাত আটটা পর্যন্ত চলে এ আয়োজন।
এবারের বইমেলায় পবিত্র রমজান মাসের কারণে সময়সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। প্রতিদিন বেলা দুইটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত মেলা চলছে, তবে শুক্র ও শনিবারসহ ছুটির দিনগুলোতে শিশুপ্রহর থাকে। এদিন মেলা শুরু হয় বেলা ১১টায় এবং শিশুপ্রহর চলে বেলা ১টা পর্যন্ত।
