মা-গাছেরা ও শিশু-গাছেরা: প্রকৃতির নৃত্য ও সময়ের সীমাবদ্ধতা
প্রকৃতির অলংকরণে এস এম রাকিবুর রহমানের কবিতায় মা-গাছেরা একটি অনন্য স্থান দখল করে আছে। এই মা-গাছেরা অত্যন্ত দ্রুত বেড়ে ওঠে, যেন আকাশের দিকে হাত বাড়িয়ে চাঁদের খসখসে বুড়িটাকে ছুঁতে চায়। যদি তা না পারে, তাহলে মেঘভান্ডারের দিশাহীন ওড়াউড়ির মধ্য দিয়ে অন্তত সোনামেঘের মুখটা দেখার চেষ্টা করে।
মহাকালের জল সরবরাহ ও শিকড়ের ভোজ
মা-গাছেদের সন্তর্পণে জল সরবরাহ করে মহাকালের মহানদের খলবলে জলভান্ডার। এই প্রক্রিয়ায় শিকড়গুলোকে ডুবিয়ে রাখা হয় অরিক্ততার অসামান্য ভোজে, যা প্রকৃতির একটি গভীর রহস্য হিসেবে কাজ করে।
ধ্রুপদ নৃত্য ও অ্যাক্রোব্যাটিক উত্থান
ধ্রুপদ নর্তকীর ‘তা তা থই থই’ শব্দমুদ্রার মতো, পদযুগলের উল্লম্ফনে মঞ্চ কেঁপে ওঠে এবং শরীর ভেসে যায় বাতাসের ইশারাময় ভাষায়। ঠিক তেমনিভাবেই, মা-গাছেরা তাদের শিশু-গাছেদের, শিশু-শব্দদের নিয়ে গুন টেনে টেনে মহাকালের ঝুলবারান্দার দিকে অ্যাক্রোব্যাটের মতো উঠে যায়। এটি প্রকৃতির একটি নাটকীয় ও সৌন্দর্যময় দৃশ্য, যা কবিতায় জীবন্ত হয়ে ওঠে।
সময়ের সীমাবদ্ধতা ও মানবিক অনুভূতি
আবহমানের এই সব মা-গাছ আর তাদের ক্রমাগত চলমান শিশু-গাছদের আমরা আর ছুঁতেই পারি না। এখন, কখনোই না। এই অনুভূতি সময়ের সীমাবদ্ধতা ও প্রকৃতির সাথে মানবিক সংযোগের একটি গভীর প্রতিফলন, যা কবিতাকে আরও সমৃদ্ধ করে তোলে।
