ঈদুল ফিতরে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ঘাটে যাত্রী শূন্য, ফেরত যাত্রীদের জন্য সতর্কতা
রাত পোহালেই পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। এই উৎসবের প্রাক্কালে রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা যাত্রীদের জন্য দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাট হয়ে দৌলতদিয়া প্রান্তে যাওয়ার পথে একটি অস্বাভাবিক দৃশ্য দেখা গেছে। শুক্রবার (২০ মার্চ) বিকাল ৩টার দিকে সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ঘাটগুলোতে যাত্রীর সংখ্যা প্রায় শূন্যের কোটায়।
ঘাটে যাত্রী শূন্যতার চিত্র
দৌলতদিয়া ফেরি ও লঞ্চঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ৭ নম্বর ফেরিঘাটে ভাষা সৈনিক ডা. গোলাম মাওলা রো রো ফেরিটি নোঙর করে স্থির হয়ে আছে। ঘাটের চারপাশে কোনও যাত্রীর ভিড় নেই, যা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন বলেন, ‘ঈদ যাত্রায় অধিকাংশ যাত্রী ইতোমধ্যে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ায় এখন আর তেমন চাপ নেই।’
ফেরত যাত্রীদের জন্য সতর্কতা
সালাহ উদ্দিন আরও উল্লেখ করেন, ‘বর্তমানে আমাদের দুশ্চিন্তা মূলত ঈদ শেষে ফেরত যাত্রীদের নিয়ে। এরই মধ্যে আবহাওয়া খারাপের দিকে যাচ্ছে, যা নৌপথে চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তবে আশা করছি ঈদ শেষে কর্মমুখী মানুষ ভালোভাবে যেতে পারবেন।’ এই পরিস্থিতিতে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস জানান, যেকোনো দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার
নৌযানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে লাইফ জ্যাকেট, বয়া ও অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এবার ঘাটে আসা ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা ছিল তুলনামূলকভাবে স্বস্তির। কোনও ভোগান্তি ছাড়াই মানুষ তাদের গন্তব্যে যেতে পেরেছেন, যা আগের বছরের চেয়ে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, এই ঈদে যাত্রী শূন্যতা একটি অনন্য ঘটনা, কিন্তু কর্তৃপক্ষ ফেরত যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে সচেতন রয়েছেন। আবহাওয়ার পরিবর্তনশীলতা মাথায় রেখে নৌপথে চলাচলের জন্য প্রস্তুতি ও সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে, যাতে ঈদ পরবর্তী সময়ে যাত্রীরা নিরাপদে তাদের কর্মস্থলে ফিরতে পারেন।



