স্টার সিনেপ্লেক্সে অনলাইন টিকিটিং সংকট: টাকা কেটে নেওয়া সত্ত্বেও দর্শকরা টিকিট পাননি
ঈদের সিনেমার টিকিট কাটতে গিয়ে স্টার সিনেপ্লেক্সের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে মারাত্মক ভোগান্তির মুখে পড়েছেন দর্শকেরা। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বসুন্ধরা সিটি শপিং মল ও এসকেএস টাওয়ার শাখায় দর্শকরা অভিযোগ করছেন যে, টিকিটের নির্ধারিত অর্থ কেটে নেওয়া হলেও তাঁরা টিকিট পাননি, ফলে সিনেমা না দেখেই ফিরতে হয়েছে।
দর্শকদের জটলা ও অভিযোগের ঢল
গত রোববার বিকেল পাঁচটার দিকে বসুন্ধরা সিটি শপিং মল শাখার অনলাইন টিকিট কাউন্টারের সামনে দর্শকের জটলা দেখা গেছে। ভুক্তভোগী দর্শকেরা সরাসরি কাউন্টারে গিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, "টাকা কেটে নিলেও স্টার সিনেপ্লেক্স কেন তাঁদের টিকিট দিচ্ছে না?" এক নারী দর্শক কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির কাছে জানতে চেয়েছেন, "আমাদের হয়রানি করা হলো কেন?" পাশে থাকা আরেক দর্শক বলেছেন, "আমি টাকা পাঠিয়েছি, আমার কাছে প্রমাণ আছে। আমাকে টিকিট দিয়ে দেন। আমি ওয়ারী থেকে কষ্ট করে আসলাম, এই ভোগান্তির দায় কে নেবে?"
ঘটনার ভিডিও ধারণ করা হলে কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিটি প্রথম আলোর সংবাদকর্মীকে ভিডিও করতে বারণ করেন এবং দর্শকের অভিযোগের বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। বসুন্ধরা সিটি শপিং মল শাখায় মাত্র ১০ মিনিটে অন্তত আটজন দর্শককে একই অভিযোগ নিয়ে আসতে দেখা গেছে, যাঁরা সবাই অনলাইনে টিকিট কেটেছিলেন। এসকেএস শাখাতেও একই অভিযোগ নিয়ে দর্শকেরা আসছেন বলে জানা গেছে।
ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও সার্ভার ডাউনের দাবি
ওয়ারী থেকে বসুন্ধরা সিটি শপিং মল শাখায় আসা দর্শক আরাফাত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, "ভোর ৫টা ৪২ মিনিটে টিকিট কেটেছি। টাকাও কেটে নিয়েছে, কিন্তু টিকিট আসেনি। সিনেপ্লেক্সে তিন দিন ধরে ফোন দিচ্ছি, তাঁরা ফোনই রিসিভ করে না। টাকা যে কেটে নিয়েছে, সেটার ব্যবস্থা কী—সেটা তাঁরা জানাচ্ছেনই না।" স্টার সিনেপ্লেক্সের এক কর্মী হৃদয় জানান, সার্ভার ডাউনের কারণে এমনটা ঘটেছে, কিন্তু দর্শকদের অভিযোগের তীব্রতা কমেনি।
ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে স্টার সিনেপ্লেক্স লিখেছে, অনলাইন টিকিটিং–সংক্রান্ত কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে ইনবক্স যোগাযোগ করুন। তবে সেই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে অনেকে অভিযোগ জানিয়েছেন। শাজনীন শিমু নামে এক দর্শক লিখেছেন, "গতকাল বিকাশ থেকে পেমেন্ট করতে গিয়ে আটকে গিয়েছে। সেই টাকা এখনো রিফান্ড হয় নাই।" ফাহমিদা ইশা নামে আরেক দর্শক লিখেছেন, "টিকিটের টাকা বিকাশ পেমেন্ট করার পরেও টিকিট কনফার্ম হয় নাই। তিন হাজার টাকা নষ্ট, কিন্তু এখনো টিকিট কনফার্ম হয়নি। কাস্টমার কেয়ারে কল করেও কোনো রেসপন্স পাওয়া যায়নি।" ইশরাত জাহান নামে আরেক দর্শক জানতে চেয়েছেন, টাকা ফেরত পাব কিনা।
ভোক্তা অধিকারে অভিযোগের হুমকি
স্টার সিনেপ্লেক্সের বিরুদ্ধে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ করবেন কামরুজ্জামান বাবু, যিনি পেশায় একজন সংবাদকর্মী। তাঁর অভিযোগ, নির্ধারিত একটি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা কেটে নেওয়ার পরও তাঁকে টিকিট দেওয়া হয়নি। কামরুজ্জামান বলেন, "সাড়ে তিন ঘণ্টার ট্রাই করে দুটি টিকিট পেয়েছিলাম। টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে। পরে আমাকে বলা হয়েছে, টিকিট আসেনি। পরদিন স্টার সিনেপ্লেক্সকে ফোন করলাম, মেসেজ করলাম। কেউ যোগাযোগ করেনি। কাস্টমার সার্ভিস থেকে অদায়িত্বশীল আচরণ করেছে। টাকাটা ফেরত দেওয়ার প্রযোজনবোধ করেনি তো বটেই, এর কোনো সদুত্তরও দেয়নি। সেটার প্রতিকার চেয়ে ও ভবিষ্যতে কোনো ধরনের বিড়ম্বনায় যেন না পড়েন দর্শক, সেটার জন্য ভোক্তা অধিকারে প্রতিকার চাইব।"
স্টার সিনেপ্লেক্স জানিয়েছে, টিকিটের অর্থ শিগগিরই ফেরত দেওয়া হবে, কিন্তু দর্শকদের মধ্যে অসন্তোষ ও ভোগান্তি এখনো চলমান। এই ঘটনা অনলাইন টিকিটিং সিস্টেমের দুর্বলতা এবং ভোক্তা সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, যা ঢালিউডের বিনোদন শিল্পে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে দেখা দিয়েছে।



