কাতার বিশ্বকাপ ২০২২: নানা ঘটনা ও অঘটনে ভরা এক স্মরণীয় আসর
কাতার বিশ্বকাপ ২০২২: নানা ঘটনা ও অঘটনে ভরা আসর

বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মধ্যপ্রাচ্য ও আরব বিশ্বের কোনো দেশ আয়োজন করেছিল ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর। ২০২২ সালে কাতারে অনুষ্ঠিত এই বিশ্বকাপ ছিল নানা দিক থেকে ব্যতিক্রমী। প্রচণ্ড গরমের কারণে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ গ্রীষ্মের বদলে নভেম্বর-ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হয়। মাত্র আটটি স্টেডিয়ামে, তুলনামূলক ছোট ভৌগোলিক পরিসরে আয়োজিত এই টুর্নামেন্ট ছিল বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত দূরত্বের আসরগুলোর একটি।

এই বিশ্বকাপেই ফুটবল বিশ্ব পায় রূপকথার এক গল্প। লিওনেল মেসির নেতৃত্বে ৩৬ বছর পর আর্জেন্টিনা জেতে নিজেদের তৃতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা। আর মেসি মিটিয়ে নেন ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অপূর্ণতা। অন্যদিকে ফাইনালে হ্যাটট্রিক করে ইতিহাস গড়েন কিলিয়ান এমবাপ্পে। যদিও টাইব্রেকারে হেরে শিরোপা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয় ফ্রান্স।

কাতার বিশ্বকাপ স্মরণীয় হয়ে আছে একের পর এক চমকের জন্যও। গ্রুপ পর্বেই সৌদি আরবের কাছে আর্জেন্টিনার হার, জাপানের জার্মানি ও স্পেনকে হারানো, এবং মরক্কোর সেমিফাইনালে পৌঁছে প্রথম আফ্রিকান ও প্রথম আরব দেশ হিসেবে ইতিহাস গড়া—সব মিলিয়ে এটি ছিল অঘটনে ভরা এক বিশ্বকাপ।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রযুক্তিগত দিক থেকেও এই আসর নতুন মাইলফলক স্থাপন করে। সেমি-অটোমেটেড অফসাইড প্রযুক্তি ও উন্নত ম্যাচ বল প্রযুক্তি প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে পূর্ণাঙ্গভাবে ব্যবহার করা হয়, যা রেফারিংকে আরও নিখুঁত হতে সহায়তা করে।

আর সবশেষে ২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনালকে অনেকেই বিশ্বকাপ ইতিহাসের সেরা ফাইনাল বলে মনে করেন। ৩-৩ গোলে সমতা, অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয়তা এবং টাইব্রেকারের রোমাঞ্চ পেরিয়ে আর্জেন্টিনার শিরোপা জয় বিশ্বকাপকে দেয় এক অবিস্মরণীয় সমাপ্তি। কাতার ২০২২ তাই শুধু একটি বিশ্বকাপ নয়, বরং ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে নাটকীয়, আবেগঘন ও স্মরণীয় অধ্যায়গুলোর একটি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আলোচিত মুহূর্ত

মরগ্যান ফ্রিম্যান ও দুই পা-বিহীন গনিম আল-মুফতাহ বিশ্বকাপ উদ্বোধনের মঞ্চে মরগান ফ্রিম্যান যখন উঠে দাঁড়ালেন আর গনিম আল মুফতাহ নিচ থেকে ডান হাতটা বাড়িয়ে দিলেন। সঙ্গে সঙ্গে এক জাদুকরি ও মনোমুগ্ধকর মুহূর্তের জন্ম হলো। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আলোচিত ও আবেগঘন মুহূর্তগুলোর একটি ছিল এটি। জন্মগত বিরল রোগ 'কডাল রিগ্রেশন সিনড্রোম'-এর কারণে গনিমের শরীরের নিচের অংশ বিকশিত হয়নি। কিন্তু নিজের এই অক্ষমতাকে জয় করেছেন তিনি। পরিণত হন কাতারের অন্যতম পরিচিত অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তিত্বে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মরগ্যান ফ্রিম্যান ও গানিমের সংলাপের মূল বিষয় ছিল ভিন্ন সংস্কৃতি, ভাষা ও বিশ্বাসের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান ও সহাবস্থান। একপর্যায়ে গানিম পবিত্র কোরআনের সুরা আল-হুজুরাতের একটি আয়াত তিলাওয়াত করেন, যেখানে বিভিন্ন জাতি ও গোষ্ঠীর মানুষের পারস্পরিক পরিচয় ও বোঝাপড়ার কথা বলা হয়েছে। বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরে এই বার্তা বিশেষ গুরুত্ব পায়। অনুষ্ঠানটি শেষ হওয়ার পর সামাজিক মাধ্যমে গানিম আল-মুফতাহ ব্যাপক আলোচনায় আসেন। অনেকেই তাঁকে মানবিক দৃঢ়তা ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির প্রতীক হিসেবে অভিহিত করেন। ফুটবলের বাইরেও মানবতা, বৈচিত্র্য ও অনুপ্রেরণার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার কারণে এই মুহূর্তটি কাতার বিশ্বকাপের অন্যতম স্মরণীয় ঘটনা হয়ে আছে।

বিটিএস তারকা জাংকুকের পারফরম্যান্স

২০২২ কাতার বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় কে-পপ গ্রুপ বিটিএস-এর সদস্য জাং কুকের পারফরম্যান্স ছিল সবচেয়ে বড় আকর্ষণগুলোর একটি। তিনি উদ্বোধনী মঞ্চে 'ড্রিমারস' গানটি পরিবেশন করেন, যা কাতার বিশ্বকাপের অফিশিয়াল সাউন্ডট্র্যাকগুলোর একটি ছিল। গানটির মাধ্যমে ফুটবলের স্বপ্ন, ঐক্য এবং বৈশ্বিক সংযোগের বার্তা তুলে ধরা হয়। লুসাইল স্টেডিয়ামে তাঁর লাইভ পারফরম্যান্স শুরু হওয়ার সঙ্গেই পুরো স্টেডিয়ামে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। হাজারো দর্শকের সঙ্গে অনলাইনে কোটি কোটি মানুষ এই পরিবেশনা উপভোগ করেন। বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, বাংলাদেশসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সামাজিক মাধ্যমে এটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। অনেক ভক্তের কাছে এটি ছিল বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো কে-পপ তারকার উদ্বোধনী মঞ্চে একক লাইভ পারফরম্যান্স, যা আয়োজনটিকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তোলে। এই পারফরম্যান্স শুধু একটি সংগীত পরিবেশনা ছিল না, বরং ফুটবল ও পপ সংস্কৃতির এক অনন্য সংমিশ্রণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। অনেকেই এটিকে 'বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে আধুনিক ও গ্লোবাল ওপেনিং পারফরম্যান্স' হিসেবে আখ্যা দেন।

বিয়ার নিষেধাজ্ঞার নাটক

২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সবচেয়ে আলোচিত অফ-দ্য-ফিল্ড ঘটনাগুলোর একটি ছিল স্টেডিয়ামে অ্যালকোহল বিক্রির নীতিতে শেষ মুহূর্তের পরিবর্তন। শুরুতে পরিকল্পনা ছিল, নির্দিষ্ট কিছু ফ্যান জোন ও স্টেডিয়ামের নির্ধারিত এলাকায় সীমিতভাবে বিয়ার বিক্রি করা হবে। কিন্তু বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র দুই দিন আগে কাতার কর্তৃপক্ষ হঠাৎ সিদ্ধান্ত নেয় যে স্টেডিয়ামের আশপাশে বিয়ার বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। এই সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বড় ধাক্কা লাগে টুর্নামেন্টের অন্যতম প্রধান স্পনসর বাডওয়াইজার ওপর। কারণ, বাডওয়াইজার ছিল ফিফার অফিশিয়াল বিয়ার পার্টনার এবং বিশ্বকাপ ভেন্যুতে তাদের বিশাল ব্র্যান্ডিং ও বিক্রির পরিকল্পনা ছিল। আকস্মিক নিষেধাজ্ঞার কারণে কোম্পানির বিপণন পরিকল্পনা বড় ধরনের সমস্যায় পড়ে এবং বিষয়টি আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় দ্রুত আলোচনায় চলে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়, অনেকে এটিকে আয়োজনের নীতিগত কঠোরতা হিসেবে দেখেন, আবার অনেকে স্পনসরদের সঙ্গে অস্বস্তিকর সমঝোতা হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। পরিস্থিতি আরও আলোচিত হয় যখন বাডওয়াইজার তাদের অফিশিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে সংক্ষিপ্তভাবে একটি পোস্ট দেয়- 'এটা বিব্রতকর'। এই এক লাইনের পোস্ট দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় এবং পুরো ঘটনার প্রতীকী বাক্য হিসেবে ব্যবহৃত হতে থাকে। পরবর্তীতে স্টেডিয়ামের ভিতরে কিছু ভিআইপি ও হসপিটালিটি এলাকায় সীমিত অ্যালকোহল পরিবেশনের অনুমতি থাকলেও সাধারণ দর্শকদের জন্য তা বন্ধই রাখা হয়। এই সিদ্ধান্ত শুধু বাণিজ্যিক দিক থেকেই নয়, বরং সংস্কৃতি, আইন ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনের ভারসাম্য নিয়েও বড় বিতর্ক তৈরি করে। ফলে বিয়ার নিষেধাজ্ঞার ঘটনাটি কাতার বিশ্বকাপের অন্যতম বিতর্কিত ঘটনা হয়ে আছে।

সৌদি আরবের ছুটি ঘোষণা

২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সবচেয়ে অবিশ্বাস্য ও আলোচিত ঘটনার একটি ছিল সৌদি আরবের জয় এবং তার পরপরই নেওয়া এক বিরল এক সিদ্ধান্ত। গ্রুপ পর্বে তারা শক্তিশালী আর্জেন্টিনাকে ২-১ গোলে হারিয়ে দেয়, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটন হিসেবে বিবেচিত হয়। এই জয়ের পরপরই পুরো সৌদি আরবে আনন্দ-উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। ম্যাচের গুরুত্ব ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত বিবেচনা করে সৌদি সরকার পরদিন দেশজুড়ে জাতীয় ছুটি ঘোষণা করে। এই সিদ্ধান্ত ছিল অত্যন্ত বিরল, কারণ ফুটবল ম্যাচের ফলকে কেন্দ্র করে সাধারণত রাষ্ট্রীয় ছুটি ঘোষণা করা হয় না। কিন্তু এই জয়কে সৌদি নেতৃত্ব জাতীয় গর্ব ও ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে দেখেছিল। ছুটির ঘোষণার পর সরকারি অফিস, অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন কর্মক্ষেত্র বন্ধ রাখা হয়, যাতে মানুষ এই ঐতিহাসিক মুহূর্ত উদ্‌যাপন করতে পারে। রাজধানী রিয়াদসহ বিভিন্ন শহরে ব্যাপক আনন্দ-উল্লাস, রাস্তায় মিছিল এবং পতাকা ওড়ানোর দৃশ্য দেখা যায়। এই ঘটনা শুধু সৌদি আরবেই নয়, বিশ্বজুড়েও আলোচনার জন্ম দেয়। অনেক ফুটবল বিশ্লেষক একে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় 'ডেভিড বনাম গোলিয়াথ' ধরনের জয়গুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে এটি দেখায় যে ফুটবল শুধু খেলা নয়, অনেক দেশের জন্য জাতীয় আবেগ ও পরিচয়ের অংশ।

জাপানি সমর্থকদের পরিচ্ছন্নতা অভিযান

২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সবচেয়ে প্রশংসিত ঘটনার একটি ছিল জাপানের সমর্থকদের পরিচ্ছন্নতা অভিযান। প্রতিটি ম্যাচ শেষে জাপানি দর্শকেরা গ্যালারিতে পড়ে থাকা প্লাস্টিক, বোতল, খাবারের প্যাকেটসহ সব ধরনের আবর্জনা নিজেরাই কুড়িয়ে পরিষ্কার করতেন। শুধু সমর্থকরাই নয়, জাপান দলের খেলোয়াড়রাও ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুম সম্পূর্ণ গুছিয়ে রেখে যেতেন, যেন সেখানে কেউ ব্যবহারই করেনি। এই আচরণ বিশ্বকাপ চলাকালে একাধিকবার ক্যামেরায় ধরা পড়ে এবং সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়। অনেক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এটিকে 'নীরব শৃঙ্খলা ও সংস্কৃতির শিক্ষা' হিসেবে উল্লেখ করে। সাধারণত বড় টুর্নামেন্টে দর্শকদের পরে স্টেডিয়াম পরিষ্কারের দায়িত্ব আয়োজকদের থাকে, কিন্তু জাপানি সমর্থকেরা নিজেদের উদ্যোগেই দায়িত্ব নিয়ে নেন। এতে স্টেডিয়ামগুলো আশ্চর্যজনকভাবে পরিচ্ছন্ন অবস্থায় দেখা যেত। এই আচরণের পেছনে জাপানি সংস্কৃতির গভীর মূল্যবোধ কাজ করে। ফুটবলের ফলাফলের বাইরেও এই মানবিক ও শৃঙ্খলাবদ্ধ আচরণ কাতার বিশ্বকাপের সবচেয়ে ইতিবাচক ও অনুপ্রেরণামূলক মুহূর্তগুলোর একটি হয়ে ওঠে, যা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়।

মেসির 'বিস্ত' পরার মুহূর্ত

২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে শিরোপা জয়ের পর সবচেয়ে আলোচিত ও আইকনিক মুহূর্তগুলোর একটি ছিল মেসিকে কালো আরবীয় পোশাক 'বিস্ত' পরানোর দৃশ্য। ট্রফি উঁচিয়ে ধরার ঠিক আগে মেসিকে এই ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিয়ে দেওয়া হয়। 'বিস্ত' মূলত আরব বিশ্বের একটি ঐতিহ্যবাহী আনুষ্ঠানিক পোশাক, যা সম্মান, মর্যাদা এবং বিশেষ মুহূর্ত উদ্‌যাপনের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ট্রফি গ্রহণের সময় মেসির গায়ে এই পোশাক পরিয়ে দেওয়ায় ছবিটি তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় ছবিতে পরিণত হয়। এই মুহূর্ত নিয়ে বিশ্বজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই এটিকে আয়োজক দেশের পক্ষ থেকে একজন বিশ্বসেরা খেলোয়াড়কে সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন হিসেবে দেখেন। তাদের মতে, এটি আরব সংস্কৃতি ও আতিথেয়তার প্রতীকী প্রকাশ, যেখানে বিজয়ীকে ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সম্মান জানানো হয়েছে। অন্যদিকে কিছু সমালোচক মনে করেন, ট্রফি তোলার সময় মেসির আর্জেন্টিনার জার্সি আংশিকভাবে ঢেকে যাওয়ায় তার ঐতিহাসিক মুহূর্তের ভিজ্যুয়াল পরিচিতি কিছুটা আড়াল হয়ে গেছে। তবুও বাস্তবে এই দৃশ্যটি ফুটবল ইতিহাসে স্থায়ীভাবে জায়গা করে নেয়। বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দ, আরব সংস্কৃতির আনুষ্ঠানিকতা এবং মেসির ক্যারিয়ারের চূড়ান্ত অর্জন—সব মিলিয়ে এটি হয়ে ওঠে কাতার বিশ্বকাপের সবচেয়ে প্রতীকী ও বিতর্কিত আইকনিক মুহূর্তগুলোর একটি।

বাংলাদেশকে স্কালোনির ধন্যবাদ

২০২২ কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে যে উচ্ছ্বাস তৈরি হয়, তার একটি বড় ও অবাক করা অংশ ছিল বাংলাদেশকেন্দ্রিক। বিশেষ করে লিওনেল মেসিকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের আবেগ ও উদ্‌যাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে আর্জেন্টিনার পতাকা, জার্সি এবং মেসির পোস্টার নিয়ে রাস্তায় মানুষের উল্লাসের ভিডিও বিশ্ব মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। বিষয়টি এতটাই আলোচিত হয়েছে যে, আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশন (এএফএ) ও আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি পর্যন্ত টুইট করে ধন্যবাদ জানান বাংলাদেশের আর্জেন্টিনা সমর্থকদের। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচের আগে এএফএ'র ওই টুইটের কথা মনে করিয়ে দিলে স্কালোনি বলেন, 'এসব জেনে তো খুবই ভালো লাগে। আমার মনে হয়, প্রথমে ডিয়েগো (ম্যারাডোনা), পরে মেসির কারণে আর্জেন্টিনার ফুটবলের সমর্থক বেড়েছে। বাংলাদেশে আমাদের এমন সমর্থন আছে জেনে আমি গর্বিত। শুধু বাংলাদেশেই নয়, অন্য অনেক দেশের মানুষও আমাদের সমর্থন করে।‌' আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের পর এই উচ্ছ্বাস আরও বেড়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশি সমর্থকদের আনন্দ উদ্‌যাপনের ভিডিও, পতাকা নিয়ে নাচ, এবং মেসির ছবি হাতে রাস্তায় নেমে আসার দৃশ্য ভাইরাল হয়ে যায়। এই ঘটনা শুধু একটি জয়ের উদ্‌যাপন ছিল না, বরং ফুটবলকে ঘিরে বৈশ্বিক সংযোগের একটি প্রতীক হয়ে ওঠে।