ঠান্ডা খাবারে মাথাব্যথা: ব্রেইন ফ্রিজের রহস্য ও প্রতিকার
ঠান্ডা খাবারে মাথাব্যথা: ব্রেইন ফ্রিজের কারণ ও প্রতিকার

গরমের দিনে ঠান্ডা আইসক্রিম বা পানীয় খেতে গিয়ে হঠাৎ কপালে তীক্ষ্ণ, ছুরির মতো ব্যথা অনুভব করেছেন কখনো? অনেকেই এটিকে 'ব্রেইন ফ্রিজ' বা 'আইসক্রিম হেডেক' হিসেবে চেনেন। এই ব্যথা কয়েক সেকেন্ড থেকে এক মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে এবং খুব অস্বস্তিকর হলেও সাধারণত এটি ক্ষতিকর নয়।

কেন হয় এই 'ব্রেইন ফ্রিজ'?

বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত ঠান্ডা খাবার বা পানীয় মুখের তালুতে পৌঁছালে সেখানে রক্তনালিগুলো হঠাৎ সংকুচিত হয়ে পরে আবার দ্রুত প্রসারিত হয়। এ পরিবর্তনের কারণে ব্যথা অনুভূত হয়। মস্তিষ্কে ব্যথা না হলেও মুখ ও কপালের স্নায়ু এই সংকেতকে সেখানে ব্যথা হিসেবে পাঠায়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মায়ো ক্লিনিকের নিউরোলজিস্ট আমাল স্টারলিং বলেন, আইসক্রিম হেডেক খুবই সাধারণ এবং এটি ক্ষতিকর নয়, আসে আবার চলে যায়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গবেষকদের মতে, খুব দ্রুত ঠান্ডা খাবার গ্রহণ করলে মুখের উপরের অংশে রক্তনালির সংকোচন-প্রসারণ ঘটে। এতে ট্রাইজেমিনাল নার্ভ (মুখ ও মাথার ব্যথা অনুভূতির প্রধান স্নায়ু) উত্তেজিত হয়। ফলে কপালে তীব্র ব্যথার অনুভূতি তৈরি হয়, যা 'মস্তিষ্কে ব্যথা' মনে হলেও আসলে তা মুখের স্নায়ুজনিত প্রতিক্রিয়া।

কারা বেশি আক্রান্ত হন?

গবেষণায় দেখা গেছে, এই সমস্যা সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে হয় না। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এটি বেশি দেখা যায়, বিশেষ করে যাদের মাইগ্রেনের সমস্যা রয়েছে। ইতালির ইউনিভার্সিটি অব পাদুয়ার গবেষক ইরেন টলডো জানান, যাদের মাইগ্রেন আছে, তাদের মধ্যে আইসক্রিম হেডেক হওয়ার প্রবণতা বেশি এবং ব্যথাও তুলনামূলক তীব্র হয়।

এছাড়া এটি পরিবারগতভাবেও থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অর্থাৎ বাবা-মায়ের মধ্যে থাকলে সন্তানের মধ্যেও হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এটি কি কোনো বড় রোগের ইঙ্গিত?

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ আইসক্রিম হেডেক কোনো গুরুতর রোগ নয়। তবে যদি কারও বারবার তীব্র মাথাব্যথা হয় বা সাধারণ মাথাব্যথার ইতিহাস থাকে, তাহলে এটি মাইগ্রেনের ইঙ্গিত হতে পারে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি ৬ জন নারীর একজন, ১১ জন শিশুর একজন এবং ১০ জন পুরুষের একজন মাইগ্রেন সমস্যায় ভুগে থাকেন। কিন্তু এর অর্ধেকেরও বেশি মানুষ চিকিৎসকের পরামর্শ নেন না।

গবেষণায় 'ব্রেইন ফ্রিজ' কেন গুরুত্বপূর্ণ?

বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরেই আইসক্রিম হেডেককে মাইগ্রেন গবেষণার একটি সহজ পরীক্ষামূলক উপায় হিসেবে ব্যবহার করছেন। কারণ এটি একই স্নায়ু সক্রিয় করে, যেটি মাইগ্রেনের সময়ও ব্যথার সংকেত দেয়। এ কারণে গবেষণাগারে কৃত্রিমভাবে ঠান্ডা পানীয় বা বরফ দিয়ে এই ব্যথা সৃষ্টি করে মাইগ্রেন বোঝার চেষ্টা করা হয়েছে।

কীভাবে এড়ানো যায়?

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, খুব দ্রুত ঠান্ডা খাবার খাওয়া বা পান করা এড়িয়ে চলা উচিত। আইসক্রিম ধীরে ধীরে খেলে বা মাঝে বিরতি নিলে এই ব্যথা অনেকটাই কমে যায়। যদি ব্যথা শুরু হয়, তাহলে জিহ্বা দিয়ে মুখের তালু গরম করা বা কুসুম গরম পানীয় পান করলে দ্রুত উপশম পাওয়া যেতে পারে।

শেষ কথা: আইসক্রিম হেডেক সাধারণত ক্ষতিকর নয়, তবে এটি শরীরের স্নায়ুর প্রতিক্রিয়ার একটি ইঙ্গিত। ধীরে ধীরে ঠান্ডা খাবার উপভোগ করাই সবচেয়ে ভালো উপায়—তাতে ব্যথাও এড়ানো যায়, আর স্বাদও ভালোভাবে উপভোগ করা সম্ভব।