মালয়েশিয়ায় অভিযানে ৭৯ বাংলাদেশি শ্রমিক আটক, ভিসা অপব্যবহারের অভিযোগ
মালয়েশিয়ায় ৭৯ বাংলাদেশি আটক, ভিসা অপব্যবহারের অভিযোগ

মালয়েশিয়ায় অভিযানে ৭৯ বাংলাদেশি শ্রমিক আটক, ভিসা অপব্যবহারের অভিযোগ

মালয়েশিয়ার পেরাক অঙ্গরাজ্যের ইমিগ্রেশন বিভাগ একটি বড় ধরনের অভিযান চালিয়ে ৭৯ জন বাংলাদেশি শ্রমিককে আটক করেছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) রাতে চেমোরের কানথান শিল্প এলাকায় অবস্থিত দুটি রাবার গ্লাভস তৈরির কারখানায় এই অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানের বিস্তারিত বিবরণ

মালয়েশিয়ার স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাত ৭টা থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে ইমিগ্রেশন বিভাগের পাশাপাশি শ্রম বিভাগ (জেটিকে), পুলিশ (পিডিআরএম), জেনারেল অপারেশন ফোর্স (পিজিএ) এবং জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ (জেপিএন)-এর সদস্যরাও অংশগ্রহণ করেন। পেরাক ইমিগ্রেশন বিভাগের পরিচালক দাতুক জেমস লি জানিয়েছেন, প্রথম কারখানা থেকে ৫৬ জন এবং দ্বিতীয় কারখানা থেকে বাকি ২৩ জন শ্রমিককে আটক করা হয়েছে।

আটককৃতদের সবাই কর্মঘণ্টার শিফট পরিবর্তনের সময় ধরা পড়েন। জেমস লি উল্লেখ করেন, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে যে, তারা মালয়েশিয়ায় প্রবেশের জন্য ব্যবহৃত ভিজিট পাসের অপব্যবহার করেছেন এবং অনেকে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি দিন অবস্থান করেছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কারখানা ব্যবস্থাপনার সন্দেহ

জেমস লি আরও জানান, একই মূল কোম্পানির অধীনস্থ এই দুটি কারখানার ব্যবস্থাপনা অন্য কোম্পানি বা খাতে নিবন্ধিত বিদেশি শ্রমিকদের এখানে নিয়োগ দিয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আটককৃতদের বিরুদ্ধে ১৯৬৩ সালের ইমিগ্রেশন বিধিমালার ৩৯বি ধারা অনুযায়ী (পাস, পারমিট বা সীমান্ত পাসের অপব্যবহার) তদন্ত করা হবে।

এছাড়া শ্রম বিভাগও (জেটিকে) নিজস্ব আইনের আওতায় সংশ্লিষ্ট অপরাধ তদন্ত করবে বলে তিনি জানিয়েছেন। জেমস লি উল্লেখ করেন, গত বছরের পর এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ওই দুটি কারখানায় অভিযান চালানো হলো।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

বিদেশি শ্রমিকদের পাশাপাশি কোনো অপরাধে জড়িত নিয়োগকর্তাকেও ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি যোগ করেন। এই অভিযানটি মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ ও ভিসা নীতির কঠোর প্রয়োগের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপ বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করতে পারে, যারা দেশটিতে বৈধভাবে কাজ করতে চান। আটককৃতদের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা এখন তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে।