সিঙ্গাপুরের সঙ্গে বৈঠকে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি ও সহযোগিতা বৃদ্ধির আলোচনা
সিঙ্গাপুরের সঙ্গে বৈঠকে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি ও সহযোগিতা বৃদ্ধি

সিঙ্গাপুরের সঙ্গে বৈঠকে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি ও সহযোগিতা বৃদ্ধির আলোচনা

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হকের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের চার্জ ডি অ্যাফেয়ার্স মিশেল লির একটি গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) প্রতিমন্ত্রীর নিজস্ব দফতরে এই বৈঠকটি সম্পন্ন হয়, যা অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে পরিচালিত হয়।

দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ ও সহযোগিতার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা

এই বৈঠকে দু’দেশের পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গভীরভাবে আলোচনা করা হয়, বিশেষ করে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধির উপর জোর দেওয়া হয়। চার্জ ডি অ্যাফেয়ার্স মিশেল লি বাংলাদেশের বিমানবন্দরে যাত্রী তথ্য ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন, যা অবকাঠামো উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।

ঐতিহাসিক সম্পর্ক ও বর্তমান উদ্যোগ

সাক্ষাতের শুরুতে প্রতিমন্ত্রী সিঙ্গাপুরের চার্জ ডি অ্যাফেয়ার্সকে ধন্যবাদ জানিয়ে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্বীকৃতি প্রদানকারী দেশগুলোর অন্যতম হিসেবে সিঙ্গাপুরের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। এটি দু’দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রতিমন্ত্রীর বিশেষ অনুরোধ ও প্রস্তাব

বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশে বিদ্যমান সিঙ্গাপুর ওভারসিজ টেস্টিং সেন্টারগুলোর (ওটিসি) সংখ্যা ছয়টি থেকে বৃদ্ধি করে ন্যূনতম ১০টিতে উন্নীত করার জন্য সিঙ্গাপুর সরকারের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানান। তিনি বর্তমানে প্রচলিত সেক্টরগুলোর পাশাপাশি নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তি নিয়োগের আহ্বান জানান:

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • ফুড অ্যান্ড বেভারেজ
  • নার্সিং
  • কেয়ারগিভিং
  • ম্যানুফ্যাকচারিং
  • হোটেল ব্যবস্থাপনা

প্রতিমন্ত্রী এই বিশেষায়িত সেক্টরগুলোর জন্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারগুলো (টিটিসি) ব্যবহারের প্রস্তাব দেন এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় লোক নিয়োগের জন্য একমাত্র সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বোয়েসলকে ‘সেন্ডিং অর্গানাইজেশন’ হিসেবে তালিকাভুক্তকরণের অনুরোধ করেন।

যুগ্ম সচিবের তথ্য ও প্রস্তাব

আলোচনায় অংশ নেওয়া যুগ্ম সচিব মো. শহিদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, বর্তমানে প্রায় এক দশমিক ৩৫ লাখ বাংলাদেশি কর্মী সিঙ্গাপুরে কর্মরত রয়েছেন। তিনি বাংলাদেশে থাকা ছয়টি ‘ইনস্টিটিউট অব ম্যারিন টেকনোলজি’ থেকে ডিপ্লোমা এবং শর্ট কোর্স সম্পন্নকারীদের সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন বন্দরে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাব করেন। এছাড়া তিনি ‘স্যান্ডবক্স’ প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত কোটা বৃদ্ধিরও অনুরোধ জানান, যা কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে সহায়ক হতে পারে।

সিঙ্গাপুরের প্রতিনিধির প্রতিক্রিয়া ও সম্ভাবনা

সিঙ্গাপুরের চার্জ ডি অ্যাফেয়ার্স মিশেল লি বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তির প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে চাঙ্গি এয়ারপোর্ট, সান্তোসা দ্বীপ ও পায়া লেভার এয়ারবেসে বাংলাদেশি দক্ষ শ্রমিক নিয়োগের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন। তিনি ঢাকা-সিঙ্গাপুর রুটে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের বর্তমান সাতটি ফ্লাইট দ্বিগুণ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তবে, এক্ষেত্রে কর্মীদের উন্নত দক্ষতা এবং সিঙ্গাপুরের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার উপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন, যা টেকসই সহযোগিতার ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

এই বৈঠকটি দু’দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পথ প্রশস্ত করেছে এবং ভবিষ্যতে আরও ব্যাপক সহযোগিতার সম্ভাবনা উন্মোচন করেছে।