মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার পুনরায় চালু করতে বাংলাদেশের মন্ত্রী ও উপদেষ্টার সফর
বন্ধ থাকা শ্রমবাজার নিয়ে আলোচনা করতে মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী কল্যাণ বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে তারা কুয়ালালামপুরে পৌঁছানোর মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ সফর শুরু করেছেন। বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর শ্রমবাজার নিয়ে আলোচনা করতে এটি প্রথম সফর হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
তিন দিনের সফরে মালয়েশিয়ার মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক
তিন দিনের এই সফরে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তারা সাক্ষাৎ করবেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার চেষ্টা চলছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এই শ্রমবাজার খোলার প্রচেষ্টা করা হলেও তেমন কোনও সাড়া মেলেনি। মালয়েশিয়ার শর্ত এবং নানা সংকটে ঝুলে আছে এই শ্রমবাজারের ভাগ্য।
২০২৪ সালের ১ জুন থেকে বাংলাদেশসহ আরও কয়েকটি দেশ থেকে কর্মী নেওয়া বন্ধ করে দেয় মালয়েশিয়া। তখন প্রায় ১৮ হাজার কর্মী সবকিছু ঠিক থাকা সত্ত্বেও শেষ মুহূর্তে মালয়েশিয়া যেতে পারেনি। এতে করে এসব কর্মীর জমা দেওয়া প্রায় ৮০০ কোটি টাকার ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় পড়ে। তবে সরকার এবং রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো দাবি করেছে, এসব কর্মীর অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে। তবে অনেক কর্মী দাবি করেছেন, তারা পুরো অর্থ ফেরত পাননি।
কর্মী পাঠানো প্রক্রিয়ার বর্তমান অবস্থা
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যেতে না পারা কর্মীদের পুনরায় পাঠানোর কাজ শুরু হয়। ২০২৫ সালের নভেম্বরে এসব কর্মীর প্রথম ফ্লাইট মালয়েশিয়ায় যায়। কিন্তু সেটিও ধীর গতিতে চলছে। মালয়েশিয়া যেতে না পারা ৭ হাজার ৮৭৩ জন কর্মীকে সে দেশে নির্মাণ খাতে নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডে (বোয়েসেল)।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৬ নভেম্বর থেকে এই বছরের ২৯ মার্চ পর্যন্ত ৮৮১ জন কর্মীকে ভিসা প্রাপ্তি সাপেক্ষে বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হয়েছে। এই তথ্য থেকে স্পষ্ট যে, প্রক্রিয়াটি এখনও ধীরগতিতে এগোচ্ছে এবং আরও ত্বরান্বিত করার প্রয়োজন রয়েছে।
সফরের সম্ভাব্য ফলাফল ও আলোচনার বিষয়বস্তু
মন্ত্রী ও উপদেষ্টার এই সফরে শ্রমবাজার চালু করার বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া অনিয়মিত কর্মীদের নিয়মিত করা, কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া কোন প্রক্রিয়ায় হবে সেসব বিষয় আলোচনা হবে মালয়েশিয়ার সরকারের সঙ্গে।
এই আলোচনাগুলো বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মালয়েশিয়া বাংলাদেশের একটি বড় শ্রমবাজার হিসেবে পরিচিত। শ্রমবাজার পুনরায় চালু হলে তা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং হাজার হাজার কর্মীর জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং উপদেষ্টা মাহদী আমিনের এই সফরকে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যা বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে শ্রমবিষয়ক সহযোগিতা জোরদার করতে পারে।



