মালয়েশিয়ায় মন্ত্রী-উপদেষ্টার সফর: বন্ধ শ্রমবাজার খুলতে আলোচনা জোরদার
মালয়েশিয়ায় মন্ত্রী-উপদেষ্টার সফর: শ্রমবাজার খুলতে আলোচনা

মালয়েশিয়ায় মন্ত্রী-উপদেষ্টার সফর: বন্ধ শ্রমবাজার খুলতে আলোচনা জোরদার

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী কল্যাণবিষয়ক উপদেষ্টা মাহাদী আমিন মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন। বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে শুরু হওয়া এই মন্ত্রী পর্যায়ের সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন অভিবাসন বিশ্লেষক ও জনশক্তি রপ্তানিকারকরা।

সফরের মূল লক্ষ্য ও বৈঠকের প্রস্তুতি

সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা মালয়েশিয়ার সম্ভাবনাময় শ্রমবাজার দ্রুত চালু করাই এবারের সফরের মূল লক্ষ্য। শ্রমবাজার কবে, কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় পুনরায় চালু হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের পর। কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রীর আমন্ত্রণে মন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছে। তারা দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন, যেখানে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের বিষয়টি প্রধান আলোচ্যসূচি হিসেবে গুরুত্ব পাবে।

এর আগে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বারনামা জানায়, বাংলাদেশ সরকারের প্রশাসন বিভাগের জারি করা সরকারি আদেশের মাধ্যমে এ সফরের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী কল্যাণবিষয়ক উপদেষ্টা মাহাদী আমিন জানিয়েছেন, প্রতিনিধি দলটি মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেবে। এসব বৈঠকে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া শ্রমবাজার পুনরায় চালু, নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং দ্বিপক্ষীয় শ্রম সহযোগিতা জোরদারের বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পাবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শ্রমিকদের সমস্যা ও সরকারের পদক্ষেপ

পাশাপাশি মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যা, বিশেষ করে অবৈধ অবস্থানে থাকা কর্মীদের বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আলোচনা করা হবে। মাহাদী আমিন বলেন, "মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মীদের স্বার্থ রক্ষা এবং তাদের জন্য মানবিক ও টেকসই সমাধান নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে কূটনৈতিক পর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।" তিনি আরও যোগ করেন, ভবিষ্যতে অনিয়মিত অভিবাসন রোধ এবং বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সফর বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া শ্রম সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। উল্লেখ্য, প্রায় দুই বছর ধরে মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া বন্ধ রেখেছে, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। এই স্থবিরতার অন্যতম কারণ হিসেবে দাতো আমিন নুরের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গঠনের অভিযোগ উঠে, যারা কর্মী ও রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের জিম্মি করে সরকার নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয়ের কয়েকগুণ বেশি অর্থ আদায় করেছিল।

চ্যালেঞ্জ ও সতর্কতা

যদিও মালয়েশিয়া সরকার ১৪টি সোর্স দেশ থেকে কোনো সিন্ডিকেট ছাড়াই শ্রমিক নিয়োগ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং ইতোমধ্যে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক নিয়োগও সম্পন্ন করেছে। জনশক্তি রফতানিকারকদের আশঙ্কা, নতুন করে শ্রমবাজার চালু হলে পুরোনো চক্রটি আবারও সক্রিয় হয়ে ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে পারে। এমনকি এ ক্ষেত্রে আরও প্রায় ৪০০ নতুন এজেন্সিকে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনাও থাকতে পারে বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে বলেছেন, যে প্রক্রিয়াতেই শ্রমবাজার খোলা হোক না কেন, সরকারের কঠোর মনিটরিং না থাকলে একজন কর্মীর বিদেশযাত্রায় ব্যয় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এ ব্যয় পুনরুদ্ধার করতে একজন শ্রমিকের আড়াই থেকে তিন বছর সময় লেগে যেতে পারে। এই পরিস্থিতিতে, সরকারি পর্যায়ে নিবিড় তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার করা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে, যাতে শ্রমিকরা ন্যায্য মূল্যে বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতে পারে এবং তাদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।