সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত প্রবাসী আবদুল্লাহ আল মামুনের মরদেহ দেশে ফিরল
সৌদি হামলায় নিহত প্রবাসীর মরদেহ দেশে ফিরল

সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত প্রবাসীর মরদেহ দেশে ফিরে এলো

সৌদি আরবে সংঘটিত এক মিসাইল হামলায় নিহত হওয়ার প্রায় ২০ দিন পর প্রবাসী বাংলাদেশি আবদুল্লাহ আল মামুনের মরদেহ ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে তাঁর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছেছে। সোমবার আসরের নামাজের পর পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শেষবারের মতো মামুনকে দেখতে বাড়িতে স্বজন ও প্রতিবেশীদের ব্যাপক ভিড় জমে উঠে, যা এই শোকের মুহূর্তে পরিবারটির জন্য সামান্য সান্ত্বনা বয়ে এনেছে।

বিমানবন্দরে মন্ত্রীদের উপস্থিতি ও সহায়তার আশ্বাস

সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে সৌদি এয়ারলাইনসের এসভি-৮০৬ ফ্লাইটে মরদেহটি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে নিহত মামুনের পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে মরদেহ গ্রহণ করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক। মরদেহ হস্তান্তরের সময় মন্ত্রী নিহত কর্মীর পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব সহায়তার আশ্বাসও দেন তিনি। প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি দাফনের জন্য পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

গ্রামে মরদেহের আগমন ও দাফন প্রক্রিয়া

বেলা একটার দিকে মামুনের মরদেহ গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের রসুলপুর ইউনিয়নের ভরভরা গ্রামে নিয়ে আসা হয়। পরে বাদ আসর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। মামুন ভরভরা গ্রামের বাসিন্দা শহীদুল ইসলাম ওরফে শহীদ সওদাগর ছেলে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ৮ মার্চ ইফতারের আগমুহূর্তে সৌদি আরবের আল খারিজ শহরে আল তোয়াইক বলদিয়া কোম্পানির একটি শ্রমিক ক্যাম্পে ক্ষেপণাস্ত্রের বিস্ফোরণ ঘটে। এতে মামুন মিয়া গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে আল খারিজ শহরের ডাক্তার সোলাইমান আল হাবিব হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৭ মার্চ দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরিবারের শোক ও বিলাপ

নিহত মামুনের মা শাহিদা বেগম ছেলেকে হারিয়ে ক্ষণে ক্ষণে জ্ঞান হারাচ্ছিলেন। বিলাপ করে বলছিলেন, ‘আমার ছেলেকে তোমরা আইনা দেও। আমার ছেলে দেশে নতুর বাড়ি করব বলেছিল। এখন কে বাড়ি করব, আমার ছেলে তো কবরের বাড়িতে চলে গেল।’ বাবা শহীদ সওদাগর বলেন, ‘আমার ছেলে দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে ছিল। কোরবানির ঈদের পরে বাড়িতে এসে নতুন বাড়ি করার কথা ছিল। কিন্তু আমার ছেলের বাড়ি করা হলে না। আমার ছেলে ফিরল লাশ হয়ে।’

জীবিকার সন্ধানে প্রবাস জীবন

পরিবারের সদস্যরা জানান, জীবিকার সন্ধানে আট বছর আগে সৌদি আরবে যান আল মামুন। সবশেষ পাঁচ বছর আগে তিনি দেশে এসেছিলেন। তাঁর একটি ছেলেসন্তান রয়েছে। নিহত আবদুল্লাহ আল মামুনের স্ত্রীর নাম সাদিয়া ইসলাম (শারমীন)। তিনি স্নাতকত্তোর পাস। এলাকাবাসীর দাবি, পরিবারটির হাল ধরার জন্য মামুনের স্ত্রীর জন্য যেন একটা সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। সাদিয়া ইসলাম শারমীন বলেন, ‘স্বামী হারিয়েছি, বিধবা হয়েছি। আমার সন্তান এতিম হয়েছে। এখন আমার সন্তানকে কীভাবে মানুষ করব। এই পরিবারের হাল আমাকেই ধরতে হবে। সরকার যদি একটা চাকরির ব্যবস্থা করে দেয়, তাহলে আমাদের জন্য ভালো হতো।’