সৌদি আরবে মার্কিন দূতাবাস কর্মীদের জরুরি প্রত্যাবর্তনের নির্দেশ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের জরুরি ভিত্তিতে দেশে ফিরে আসার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। রোববার (৮ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত একটি নোটিশ জারি করেছে, যা নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে জারি করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণ
নোটিশে বলা হয়েছে, গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে সৌদি আরবে ইরানের একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জেরে সৃষ্ট নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণেই এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইরান ইসরাইল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলোতে দফায় দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে, যার ফলে সৌদির মার্কিন ঘাঁটি, দূতাবাস এবং তেলের স্থাপনায় গত এক সপ্তাহে কয়েক দফা হামলা হয়েছে।
সাধারণ নাগরিকদের জন্য সতর্কতা
সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে যারা সৌদি আরবে ভ্রমণে যেতে ইচ্ছুক, তাদেরও সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে নোটিশে। নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের যেসব নাগরিক সৌদিতে ভ্রমণ করতে ইচ্ছুক, তাদের ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, মার্কিন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা, সশস্ত্র সংঘাত, সন্ত্রাস, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিষয়ক বিধিনিষেধের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে ভ্রমণের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা উচিত।
পটভূমি: ইরানের পরমাণু সংলাপ ও হামলা
ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে সংলাপ চলে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই সেই সংলাপ শেষ হয়। তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরাইলও।
এই হামলার পালটা জবাব হিসেবে ইরান ইসরাইল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলোতে দফায় দফায় ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে, যা সৌদি আরবে মার্কিন স্বার্থের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা হুমকি সৃষ্টি করেছে।
সূত্র: আলজাজিরা



