ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কঠোর হুঁশিয়ারি: বিদেশি সেনা প্রবেশ করলে ধ্বংস হবে
ইরানের মাটিতে কোনও বিদেশি স্থলবাহিনী প্রবেশ করলে তাদের ধ্বংস করে দেওয়া হবে বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি-র মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই কঠোর বক্তব্য রাখেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের সাহসী সেনাবাহিনী যেকোনও শত্রুকে মোকাবিলা করার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।
ইরানের সক্ষমতা ও ঐতিহাসিক দাবি
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরান সম্পূর্ণরূপে সক্ষম। তিনি বলেন, "আমাদের অত্যন্ত সাহসী সেনারা শত্রুর অপেক্ষায় আছে। যারা ইরানের মাটিতে পা রাখবে, তাদের ধ্বংস করে দেওয়া হবে।" হাজার বছরের পুরোনো পারস্য সভ্যতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি দাবি করেন, ইরান সব সময় নিজের ভূমি রক্ষা করেছে এবং ভবিষ্যতেও এই ঐতিহ্য বজায় রাখবে।
রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা ও মার্কিন অভিযোগ
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা ও স্থাপনাগুলোতে হামলার জন্য রাশিয়া ইরানকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে বলে মার্কিন গোয়েন্দাদের ধারণা রয়েছে। এই বিষয়ে সরাসরি কোনও তথ্য না দিলেও আরাঘচি স্বীকার করেন যে, রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের সামরিক সহযোগিতা নতুন কিছু নয়। তিনি বলেন, "রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের খুব ভালো অংশীদারত্ব রয়েছে এবং তারা আমাদের বিভিন্নভাবে সাহায্য করছে। তবে আমার কাছে নির্দিষ্ট কোনও সামরিক তথ্য নেই।"
প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলা নিয়ে বক্তব্য
আরাঘচি স্পষ্ট করে বলেন যে, ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলা চালাচ্ছে না। বরং তাদের লক্ষ্যবস্তু হলো সেসব দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনা। তিনি দাবি করেন, "আমরা কেবল পাল্টা আঘাত করছি। আমাদের প্রতিবেশীদের মাটিতে দুর্ভাগ্যবশত মার্কিন স্থাপনাগুলো অবস্থিত হওয়ায় তাদের যে অসুবিধা হয়েছে, তার জন্য প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ক্ষমা চেয়েছেন।" তিনি যোগ করেন, ইরানের সংস্কৃতিতে ক্ষমা চাওয়াকে মর্যাদা ও শক্তির লক্ষণ হিসেবে দেখা হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে দাবি ও যুদ্ধবিরতির শর্ত
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি আরও বলেছেন, এই অঞ্চলে ধ্বংসযজ্ঞ ও হত্যাকাণ্ডের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টেরই উচিত স্থানীয় মানুষের কাছে ক্ষমা চাওয়া। সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, তেহরান কেবল সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, বরং যুদ্ধের স্থায়ী অবসান চায়। তবে তিনি শর্ত দেন যে, কোনও আলোচনায় বসার আগে যারা এই আগ্রাসন শুরু করেছে, তাদের জবাবদিহি করতে হবে।
আত্মরক্ষার অধিকার ও লড়াইয়ের অঙ্গীকার
আরাঘচি অভিযোগ করেন, এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, "আমরা যা করছি তা আত্মরক্ষার বৈধ অধিকার। আমাদের জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।" তার এই বক্তব্য ইরানের কঠোর অবস্থান ও আঞ্চলিক উত্তেজনা মোকাবিলার দৃঢ় প্রত্যয়কে তুলে ধরে।



