ইউক্রেনে রাশিয়ার ব্যাপক হামলা: ১৫ জনের প্রাণহানি, যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব উপেক্ষিত
ইউক্রেন জুড়ে রুশ বাহিনী ফের ভয়াবহ তাণ্ডব চালিয়েছে, যাতে অন্তত ১৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। শুক্রবার ও শনিবার দিনভর চালানো এই 'ম্যাসিভ' বা ব্যাপক হামলায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে, বিশেষ করে কিয়েভ এবং এর পার্শ্ববর্তী শহরগুলোতে। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, যুদ্ধের বিভীষিকা আবারও প্রকট হয়ে উঠেছে।
হামলার বিস্তারিত ও ক্ষয়ক্ষতি
রাশিয়ার এই হামলাগুলো দিনের আলোতে চালানো হয়েছে, যা পূর্বের রাতের আক্রমণের রণকৌশল থেকে স্পষ্ট বিচ্যুতি। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের মতে, মস্কো এখন বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে তাদের জানমালের ক্ষতি বাড়ানোর কৌশল অবলম্বন করছে। কিয়েভের নিকটবর্তী বুচা, ফাস্টিভ এবং ওবুখিভ শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যেখানে বুচা শহরে রুশ বাহিনীর পূর্ববর্তী নৃশংসতার স্মৃতি এখনও তাজা।
এছাড়াও, সুমি অঞ্চলে একটি আবাসিক ভবনে রাশিয়ার গাইডেড বোমা হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। খেরসন, ঝাইটোমির এবং দোনেৎস্ক অঞ্চল থেকেও হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। নিকোপোল শহরে রাতভর হামলায় ৫ জন নিহত এবং ২৭ জন আহত হওয়ার বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।
যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব ও রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আগামী ১২ এপ্রিলের ইস্টার উৎসব উপলক্ষে সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে ক্রেমলিন এই প্রস্তাবকে উপেক্ষা করে হামলার তীব্রতা বাড়িয়ে চলেছে। রাশিয়ার মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, তারা সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী স্থায়ী সমাধান চান।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা এক বার্তায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মস্কো ইউক্রেনের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের জবাব দিচ্ছে কয়েকশ ড্রোন ও ক্রুজ মিসাইল দিয়ে, যা তাদের বর্বরতারই বহিঃপ্রকাশ।
রাশিয়ার রণকৌশলে পরিবর্তন
জেলেনস্কির মতে, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী রুশ বাহিনী এখন কেবল বিদ্যুৎ বা জ্বালানি অবকাঠামো নয়, বরং গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য স্থাপনাকেও লক্ষ্যবস্তু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের প্রধান মাইকোলা কালাশনিকও হামলার ব্যাপকতা নিশ্চিত করেছেন।
ইউক্রেনের পাল্টা হামলা
পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইউক্রেন রাশিয়ার অভ্যন্তরে শক্তিশালী ড্রোন হামলা চালিয়েছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা ১৯২টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে। তবে সীমান্ত থেকে ১১০০ কিলোমিটার দূরে লেনিনগ্রাদ অঞ্চলের একটি সামরিক সরঞ্জাম তৈরির কারখানায় ইউক্রেনীয় ড্রোন আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে, যাতে কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বেলগোরোদ এবং মস্কো অভিমুখে আসা বেশ কিছু ড্রোনও ধ্বংস করার দাবি করেছে রুশ প্রশাসন।
এই সংঘাতের ফলে ইউক্রেনে মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে, এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। যুদ্ধের এই নতুন পর্যায়ে বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।



