নেতানিয়াহুর ইঙ্গিতে আসন্ন বড় সংঘাত, ইসরাইলে জরুরি অবস্থা বাড়ল
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একটি বড় ধরনের সংঘাত আসন্ন হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা চলমান যুদ্ধের শেষ পর্ব হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার এই বক্তব্য ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ হামলার প্রেক্ষাপটে এসেছে, যেখানে ইসরাইল ইরানের ইস্পাত শিল্প ও পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় আঘাত হেনেছে। এই হামলার উদ্দেশ্য হলো ইরানকে অস্ত্র তৈরিতে বাধা দেওয়া, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলছে।
জরুরি অবস্থা বাড়িয়ে স্কুলে অনলাইন পাঠদান অব্যাহত
এদিকে, ইসরাইলের সেনাবাহিনী জরুরি অবস্থার মেয়াদ বাড়িয়েছে, যার ফলে দেশটির জনজীবন স্বাভাবিক হচ্ছে না। নতুন নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত স্কুলগুলোতে পাঠদান অনলাইনেই অব্যাহত থাকবে এবং বড় ধরনের কোনো জনসমাগম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপ ইসরাইলের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে, কিন্তু তা দৈনন্দিন জীবনকে ব্যাহত করছে।
ইরানের জ্বালানি সম্পদে হামলার প্রস্তুতি
ইসরাইলের সামরিক বাহিনী সংবাদমাধ্যমগুলোকে অনানুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে যে, ইরানকে ঘিরে সংঘাত বৃদ্ধির বিষয়ে ব্রিফিং চলছে। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় যুদ্ধ বন্ধের আশা কমে গেছে। এখন ইসরাইল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে ইরানের পাওয়ার গ্রিড ও জ্বালানি সম্পদে আঘাত হানার অনুমতি পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। এসব হামলার জন্য তারা সক্রিয়ভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
সমালোচকদের অভিযোগ: যুদ্ধ শেষের পরিকল্পনা নেই
নেতানিয়াহু সরকারের বার্তায় সমীকরণের অন্য দিকটি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বাস্তবতা হলো, ইরানের হামলায় ইসরাইলের জনগণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। দেশটির অনেক সমালোচক দাবি করছেন যে, এই যুদ্ধের কোনো রাজনৈতিক কৌশল বা যুদ্ধ শেষের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেতানিয়াহু সরকারের নেই। এই অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে বাধা সৃষ্টি করছে।
সূত্র: আলজাজিরা।



