ই-সিগারেট নীতিমালায় বিভ্রান্তি: বেন্ডস্টার প্রমাণভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ কাঠামো প্রণয়নের আহ্বান
ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম বা ই-সিগারেট বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপনের তীব্র অভিযোগ তুলে এ খাতে প্রমাণভিত্তিক ও বাস্তবসম্মত নীতিমালা প্রণয়নের জোরালো আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন। শনিবার রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এই দাবি উপস্থাপন করেন, যা দেশের স্বাস্থ্য নীতি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে বেন্ডস্টার অবস্থান
সংবাদ সম্মেলনে বেন্ডস্টার সভাপতি সুমন জামান, সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ান আহমেদ, সহকারি সাধারণ সম্পাদক তাওফিক আহমেদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য নোমান বিন খালেক এবং মোহাম্মদ নজরুল আফসার উপস্থিত ছিলেন। তারা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ইএনডিএসকে তামাকজাত পণ্যের আওতায় এনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল, এবং এর পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তবে, এই প্রক্রিয়ায় কিছু সংগঠনের পক্ষ থেকে আংশিক ও বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করা হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন, যা সঠিক নীতিনির্ধারণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। সংগঠনটির মতে, এই বিভ্রান্তি দূর করে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ও বাস্তবতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
ই-সিগারেট ব্যবহার ও অর্থনৈতিক প্রভাব
বেন্ডস্টার তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি ইএনডিএস বা ভেপ ব্যবহার করছেন, যাদের মধ্যে অনেকেই ধূমপান ত্যাগ বা ক্ষতি কমানোর উদ্দেশ্যে এই পণ্যটি গ্রহণ করেছেন। এই ব্যবহারকারীদের সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্য নীতিতে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
এছাড়াও, এই খাতে শতাধিক প্রতিষ্ঠান ও ৬০০-এর বেশি খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র সক্রিয় রয়েছে, যার মাধ্যমে বহু মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হচ্ছে। সংগঠনটি সতর্ক করে দিয়েছে যে, পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে কালোবাজারের ঝুঁকি বাড়তে পারে এবং অনিয়ন্ত্রিত পণ্যের বিস্তার ঘটতে পারে, যা জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতির জন্য আরও ক্ষতিকর হতে পারে।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও নিয়ন্ত্রণ প্রস্তাব
সংবাদ সম্মেলনে বেন্ডস্টা জানায়, ই-সিগারেট সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত নয়, কিন্তু আন্তর্জাতিক বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংস্থার মূল্যায়ন অনুযায়ী এটি প্রচলিত দহনযোগ্য সিগারেটের তুলনায় কম ক্ষতিকর হিসেবে বিবেচিত। উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য নির্দেশিকায় ধূমপান ত্যাগে সহায়ক হিসেবে ই-সিগারেট ব্যবহারের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে, যা এই পণ্যের সম্ভাব্য উপকারিতা নির্দেশ করে।
তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও ইতালিসহ অনেক উন্নত দেশে ইএনডিএস সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ নয়; বরং নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর আওতায় এর ব্যবহার অনুমোদিত। এই দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে, বেন্ডস্টা ইএনডিএস খাতের জন্য একটি নিয়ন্ত্রিত কাঠামো প্রণয়নের প্রস্তাব তুলে ধরে, যা নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলি অন্তর্ভুক্ত করতে পারে:
- মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা
- নির্দিষ্ট বয়সসীমা নির্ধারণ
- লাইসেন্সিং ব্যবস্থা চালু
- কর কাঠামোর আওতায় আনা
- কিশোরদের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ
জনস্বাস্থ্য ও নীতিনির্ধারণের আহ্বান
সংগঠনটির নেতারা জোর দিয়ে বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষতি হ্রাস—এই তিনটি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ইএনডিএস বিষয়ে নীতিনির্ধারণ করা প্রয়োজন। তারা বিভ্রান্তিকর তথ্যের পরিবর্তে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ও বাস্তবতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান, যা দেশের স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।
এই সংবাদ সম্মেলনটি ই-সিগারেট খাতের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে।



