ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বিশেষ অভিযান শুরু
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বিশেষ মশকনিধন অভিযান শুরু করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। আজ শনিবার সকালে ‘শনিবারের অঙ্গীকার—বাসাবাড়ি করি পরিষ্কার’ শীর্ষক এ অভিযান চালু করা হয়েছে। প্রতি শনিবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ অভিযান চলবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
প্রচারপত্র ছাড়াই চলছে অভিযান
অভিযানে নগরবাসীকে সচেতন করার জন্য প্রচারপত্র বিতরণের কথা থাকলেও কর্মকর্তা-কর্মচারী কারও হাতে কোনো প্রচারপত্র দেখা যায়নি। এ বিষয়ে কর্মীরা বলেন, তাঁরা কোনো প্রচারপত্র পাননি। ঢাকা উত্তর সিটির সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সাদমান সাকিবের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অভিযানে প্রচারপত্র থাকার কথা ছিল। মশক সুপারভাইজার রুবেল হোসেন জানান, তাঁরা প্রচারপত্র হাতে পাননি। পরে সাদমান সাকিব মুঠোফোনে মেহেদী নামের একজনের সঙ্গে কথা বলে অঞ্চল অফিস থেকে প্রচারপত্র আনতে নির্দেশনা দেন।
ঝুঁকিপূর্ণ ২৫টি ওয়ার্ডে কার্যক্রম
রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরিপে ডিএনসিসির ২৫টি ওয়ার্ডকে এডিস মশার সূচকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব ওয়ার্ডে চলতি বছরের মার্চ থেকে মে পর্যন্ত প্রতি শনিবার মোট ৫৩টি প্রচারাভিযান পরিচালনা করা হবে। অভিযানে নিয়মিত মশা নিধনের ওষুধ ছিটানোর পাশাপাশি এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল হিসেবে চিহ্নিত পরিত্যক্ত ও অব্যবহৃত পাত্র অপসারণ, ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে নগরবাসীকে বাসাবাড়ির আশপাশে জমে থাকা পরিষ্কার পানি অপসারণে উদ্বুদ্ধ করা হবে।
মিরপুরে সরেজমিন অভিযান
সরেজমিনে আজ সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বরের লালমাটি টেম্পু স্ট্যান্ড এলাকায় (৫ নম্বর ওয়ার্ড) দেখা যায়, লালমাটি উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে মশা নিধনের যন্ত্রপাতি নিয়ে কর্মীরা একে একে জড়ো হচ্ছেন। সকাল ৯টার কয়েক মিনিট আগে ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে দলীয় ছবি তুলেন মশা নিধন ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। পরে তিনটি দলে ভাগ হয়ে তাঁরা অভিযান শুরু করেন।
- একটি দল মিরপুরের আদর্শনগর এলাকায় অভিযান চালায়।
- আরেকটি দল মিরপুর-১১ নম্বরের ই-ব্লকের লালমাটি এলাকায় কাজ করে।
- অন্য দলটি সাংবাদিক আবাসিক এলাকায় অভিযান শুরু করে।
আগে থেকেই একদল পরিচ্ছন্নতাকর্মী সাংবাদিক আবাসিক এলাকার খালে কচুরিপানা পরিষ্কারের কাজ করছিলেন। তাঁদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে দুজন কর্মীকে ম্যালেরিয়া অয়েল-বি মশার ওষুধ ছিটাতে দেখা যায়।
বিভিন্ন পদ্ধতিতে মশা নিধন
আদর্শনগর এলাকায় থাকা দলটিতে প্রথমে দুজন কর্মীকে ফগার যন্ত্র ব্যবহার করে ধোঁয়া দিতে দেখা যায়। তাঁদের পেছনে ছিলেন আরও দুজন কর্মী, যাঁরা লার্ভিসাইড ছিটাচ্ছিলেন। সবশেষে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ঝাড়ু দিয়ে আবর্জনা ট্রলিতে তুলছিলেন। মিরপুর-১১ নম্বরের ই-ব্লকের লালমাটি এলাকায় থাকা দলটিতে মশা নিধনের তিনজন কর্মীকে মশার লার্ভিসাইড ছিটাতে দেখা যায়। তাঁদের পেছনে আরেক কর্মী মশা নিধন ও বাসাবাড়ি পরিচ্ছন্ন রাখতে রেকর্ড করা অডিও বার্তা হ্যান্ডমাইকে বাজাচ্ছিলেন। সঙ্গে ছিলেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা।
ব্যানার-প্ল্যাকার্ড বহনে সমস্যা
সরেজমিন দেখা গেছে, মশকনিধন ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা দলীয় ছবি তোলার পর সচেতনতামূলক বার্তাযুক্ত ব্যানার ও প্ল্যাকার্ডগুলো গুটিয়ে রাখছেন। জিজ্ঞেস করলে জানালেন, একসঙ্গে ওষুধ ছিটানো আর হাতে প্ল্যাকার্ড বহন করা সম্ভব নয়। তাঁরা জানেন না কর্মকর্তারা কীভাবে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁদের মতে, এ কাজের জন্য হয় আলাদা কর্মী নির্ধারণ করতে হবে, নয়তো স্বেচ্ছাসেবক বা স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্পৃক্ত করতে হবে।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের এ বিশেষ অভিযান নগরবাসীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে প্রচারপত্র ও ব্যানার বহনের মতো কারিগরি সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
