রুশ হামলায় ইউক্রেনে নয়জন নিহত, ৬০ জন আহত
রুশ হামলায় ইউক্রেনে নয়জন নিহত, ৬০ আহত

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ, ডিনিপ্রো ও খারকিভসহ প্রধান প্রধান শহরগুলিতে রাশিয়ার বিমান হামলায় অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ভোরের দিকে চালানো এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও ৬০ জনের বেশি মানুষ। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

জেলেনস্কির সতর্কবার্তা

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আগের দিন রাতে তার ভিডিও বার্তায় বলেন, রুশ হামলা নিয়ে গোয়েন্দা সতর্কবার্তা এখনও বহাল রয়েছে। একটি বড় ধরনের হামলা হওয়ার আশঙ্কা আছে। তারা এর জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে। বর্তমানে আমাদের কাছে যা সরবরাহ রয়েছে, তা নিয়ে আমাদের রক্ষাকর্তারা সম্ভাব্য সব উপায়ে ২৪ ঘণ্টাই প্রস্তুত আছেন।

ডিনিপ্রোতে হামলা

ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর ডিনিপ্রোতে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় পাঁচজন নিহত এবং ২৫ জন আহত হয়েছেন বলে মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামে জানিয়েছেন অঞ্চলের গভর্নর ওলেকসান্দর হানঝা। তিনি ধ্বংস হয়ে যাওয়া আবাসিক ভবন, পুড়ে যাওয়া যানবাহন এবং ক্ষতিগ্রস্ত একটি শিশু পার্কের ছবি পোস্ট করে জানান, আহত সবার অবস্থা মাঝারি এবং তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কিয়েভে হামলা

অন্যদিকে রাজধানী কিয়েভজুড়ে শিশুসহ অন্তত চারজন নিহত এবং ৫১ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন মেয়র ভিতালি ক্লিচকো। একটি ২৪ তলা অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সেটি ধসে পড়েছে এবং ভেতরে মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। মেয়র আরও জানান, ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের কারণে একটি নয়তলা অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকসহ বেশ কয়েকটি ভবনে আগুন লেগে গেছে। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো বলেন, ওবোলোন জেলায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে বেশ কয়েকটি গাড়ি পুড়ছে। এছাড়া দুটি উন্মুক্ত স্থানে আগুন লেগেছে, যার একটি একটি কিন্ডারগার্টেনের কাছে অবস্থিত।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার ভোরে যখন রুশ হামলা প্রতিহতের জন্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আওয়াজে চারপাশ কেঁপে উঠছিল, তখন হাজার হাজার বাসিন্দা আশ্রয়ের জন্য কিয়েভের পাতাল রেলে ছুটে যান। তাদের অনেকের হাতে নিজস্ব জিনিসপত্র ও তোশক ছিল।

বিমান হামলার সাইরেন

প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সতর্ক বার্তার পর মঙ্গলবার ভোরে দেশের বেশিরভাগ অংশে বিমান হামলার সাইরেন বেজে ওঠে। এর আগে গত সপ্তাহে রাশিয়া সতর্ক করে বলেছিল, ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত কিয়েভের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তু এবং নীতি নির্ধারণী কেন্দ্রগুলোতে তারা হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে। একই সঙ্গে তারা বিদেশিদের কিয়েভ ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছিল। রাশিয়ার দাবি, গত মাসে ইউক্রেনের রুশ-নিয়ন্ত্রিত লুহানস্ক অঞ্চলের একটি ছাত্রাবাসে ড্রোন হামলার জবাবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যে হামলায় ২১ জন নিহত হয়েছিল। তবে ইউক্রেন সেই হামলার দায় অস্বীকার করেছে।

খারকিভ ও ক্রাসনোদারে হামলা

ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চল খারকিভে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহত ১০ জনের মধ্যে একটি শিশু রয়েছে বলে টেলিগ্রামে জানিয়েছেন মেয়র ইহোর তেরেখভ। অন্যদিকে রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্রাসনোদার এলাকার ইলস্কি তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলার পর আগুন ধরে গেছে বলে মঙ্গলবার টেলিগ্রামে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। এছাড়া রাশিয়ার দখলে থাকা ক্রিমিয়ার রুশ নৌঘাঁটি সেভাস্তোপলের ওপরেও ড্রোন হামলা প্রতিহত করছে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বলে সেখানকার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।