ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ডিএনসিসির বিশেষ মশক নিধন অভিযান শুরু হচ্ছে আগামী শনিবার থেকে
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আগাম উদ্যোগ হিসেবে বিশেষ মশকনিধন অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে। আগামীকাল শনিবার থেকে ‘শনিবারের অঙ্গীকার—বাসাবাড়ি করি পরিষ্কার’ শীর্ষক প্রচার শুরু করবে সংস্থাটি। আজ শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা উত্তর সিটির জনসংযোগ বিভাগ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
কেন এই অভিযান?
শহরের ক্রমবর্ধমান মশার উপদ্রব এবং আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগেই ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমাতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সমন্বয়ে এ কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে। এতে কীটতত্ত্ববিদ ও ডিএনসিসির ঊর্ধ্বতন কীট নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তারা অংশ নেবেন।
ক্যাম্পেইনের কার্যক্রম
ক্যাম্পেইনের আওতায় নিম্নলিখিত কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে:
- এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল হিসেবে চিহ্নিত পরিত্যক্ত ও অব্যবহৃত পাত্র অপসারণ
- ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার
- সচেতনতামূলক শোভাযাত্রা ও প্রচারপত্র বিতরণ
- গণযোগাযোগ কার্যক্রম পরিচালনা
পাশাপাশি নগরবাসীকে বাসাবাড়ির আশপাশে জমে থাকা পরিষ্কার পানি অপসারণে উদ্বুদ্ধ করা হবে।
প্রশাসকের বক্তব্য
ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেন, “প্রতি শনিবার বিশেষ মশকনিধন অভিযান পরিচালনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে। সে অনুযায়ী ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীকে নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে এবং এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংসে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে উৎসাহিত করতে এ কর্মসূচি শুরু করা হচ্ছে।”
ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত
সরকারি জরিপে রাজধানীর উত্তর অংশের বেশ কয়েকটি এলাকা এডিস মশার ঝুঁকিতে রয়েছে। রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরিচালিত জরিপে ডিএনসিসির ২৫টি ওয়ার্ডকে এডিস মশার সূচকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সময়সূচি ও লক্ষ্য
ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ জানায়, এসব ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডে চলতি বছরের মার্চ থেকে মে পর্যন্ত প্রতি শনিবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মোট ৫৩টি ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হবে। বর্ষা মৌসুমে ঢাকাসহ সারা দেশে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। এডিস মশা মূলত বাসাবাড়ি ও আঙিনায় পড়ে থাকা বিভিন্ন অব্যবহৃত পাত্রে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাসাবাড়ি, অফিস, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়ের আশপাশে জমে থাকা পানি অপসারণে সচেতনতা বাড়ানোই এই অভিযানের প্রধান লক্ষ্য।
বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই মশার সম্ভাব্য উৎপত্তিস্থল ধ্বংস করা গেলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। তাই এবার সময়ের আগেই মশা নিয়ন্ত্রণে এ বিশেষ অভিযান শুরু করা হচ্ছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
