রাজধানীর পল্লবীতে স্কুলছাত্রী রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় সারা দেশে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সুশীল সমাজের বিভিন্ন স্তরে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও দ্রুত বিচারের দাবি জানানো হয়েছে।
রাজনৈতিক নেতাদের প্রতিক্রিয়া
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান ঘটনায় ‘গভীর ক্ষোভ ও শোক’ প্রকাশ করে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।
আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) ও জাতীয় পার্টির নেতারাও বিবৃতি দিয়ে নিন্দা ও শোক জানিয়েছেন।
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
বৃহস্পতিবার সকালে রামিসার পল্লবীর বাসার সামনে সহপাঠী ও স্থানীয়রা বিক্ষোভ করেন। মিরপুরে সড়ক অবরোধ করে আসামিদের ফাঁসির দাবি জানান বিক্ষুব্ধরা। পল্লবী থানায় দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা ও ফাস্ট ট্রায়ালের দাবি জানানো হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও মশাল মিছিল করে নারী নির্যাতন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদ জানায়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়েও একই ধরনের প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হয়।
সারা দেশে বিক্ষোভ
গাজীপুরের মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন খান পাবলিক স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা মানববন্ধন করে দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। লক্ষ্মীপুরে ধর্ষণ প্রতিরোধ ফোরাম ও ইউনিভার্সাল অ্যাওয়ার সিটিজেনের ব্যানারে বিক্ষোভ হয়।
মেহেরপুরের মুজিবনগর, গাইবান্ধা, নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি, ময়মনসিংহ, ভোলা, রংপুর ও সাতক্ষীরায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয় সংগঠনগুলো দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি ও নারী-শিশু সুরক্ষার দাবিতে সড়কে নামে।
মানবাধিকার সংস্থার প্রতিক্রিয়া
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) ও হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) সাম্প্রতিক শিশু ধর্ষণ, হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে। তারা দোষীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।
জাতীয় শিশু সংগঠন ফুলকুড়ি আসর রামিসা আক্তারের হত্যার নিন্দা জানিয়ে দ্রুত বিচার ও শিশু সুরক্ষায় শক্তিশালী ব্যবস্থা দাবি করেছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ব্যাপক নাগরিক প্ল্যাটফর্ম গঠনের মাধ্যমে সমন্বিত সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে।
ক্রীড়া ও বিনোদন অঙ্গনের প্রতিক্রিয়া
সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল, ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম ও ইমরুল কায়েস, বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি ও পেসার শরিফুল ইসলাম হত্যার ঘটনায় শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
সামাজিক মাধ্যমে সাধারণ মানুষ, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও বিনোদন অঙ্গনের তারকারা দায়মুক্তির সংস্কৃতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদ সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে দায়মুক্তির সংস্কৃতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।



