ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান পরোক্ষ যুদ্ধবিরতি আলোচনা স্থগিত করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা তাসনিম। লেবাননে ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরাইল অভিযান শুরুর ঘোষণার প্রতিবাদে তেহরান এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। খবর রয়টার্স ও আল জাজিরার।
আলোচনা স্থগিতের কারণ
তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষভাবে যে বার্তা আদান-প্রদান চলছিল, তা ইরানের আলোচকরা ইতোমধ্যে বন্ধ করে দিয়েছেন। রয়টার্স জানিয়েছে, ইরানের এই সিদ্ধান্ত দ্রুত যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনাকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে। কারণ শান্তি আলোচনা চলার মধ্যেই ইরানের একাধিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে পালটা হামলা চালানোর কথাও বলেছে ইরান।
তেলের দামে প্রভাব
তাসনিমের এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫ ডলারের বেশি বেড়ে গেছে।
মার্কিন হামলা ও ইরানের পালটা আঘাত
ইরানের গোরুক শহর ও কেশম দ্বীপে রাডার ও ড্রোন সাইটগুলোতে ‘আত্মরক্ষামূলক হামলা’ চালানোর দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। সম্প্রতি এ হামলা চালানো হয় বলে সোমবার মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে সেন্টকম জানায়, আন্তর্জাতিক জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-১ ড্রোন ভূপাতিত করাসহ ইরানের ‘আগ্রাসী পদক্ষেপের’ জবাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। সেন্টকমের দাবি, মার্কিন বাহিনী ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, একটি গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন এবং দুটি আত্মঘাতী অ্যাটাক ড্রোন ধ্বংস করেছে; যা ওই অঞ্চলের জলসীমায় চলাচলকারী জাহাজগুলোর জন্য স্পষ্ট হুমকি তৈরি করছিল।
এদিকে ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমুজগন প্রদেশের সিরিক দ্বীপে একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ারে হামলার জবাবে পালটা আঘাত হেনেছে ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। মার্কিন হামলায় ব্যবহৃত একটি বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে এই পালটা হামলা চালানো হয়।
আইআরজিসির বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘হরমুজগন প্রদেশের সিরিক দ্বীপে একটি যোগাযোগ টাওয়ারে মার্কিন সেনাবাহিনীর আগ্রাসনের পর, যেখান থেকে হামলাটি চালানো হয়েছিল সেই বিমানঘাঁটিকে টার্গেট করে আইআরজিসি অ্যারোস্পেস ফোর্সের যুদ্ধবিমান। এতে পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুগুলো ধ্বংস করা হয়েছে।’
তবে আইআরজিসির পক্ষ থেকে সেই মার্কিন সামরিক স্থাপনা বা বিমানঘাঁটির সুনির্দিষ্ট অবস্থান জানানো হয়নি। এর আগে কুয়েতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্ভাব্য হামলার বিরুদ্ধে সক্রিয় হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল এবং সে সময় দেশজুড়ে সাইরেনের আওয়াজ শোনা যায়।



