চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়ায় চার বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনার রেশ না কাটতেই আগ্রাবাদে এবার সাত বছরের আরেক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত এক যুবককে আটক করে পিটুনি দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে উত্তেজিত জনতার হাতে প্রায় দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে পুলিশ।
ঘটনার বিবরণ
নগরীর ডবলমুরিং থানাধীন আগ্রাবাদ হাজিপাড়া সুন্নিয়া মাদ্রাসা এলাকায় শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। শিশুটিকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিশুটিকে সড়ক থেকে একটি নির্জন স্থানে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে এক যুবক। শিশুটির চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে বিক্ষুব্ধ লোকজন অভিযুক্ত যুবককে পিটুনি দেন।
পুলিশের অবস্থা
খবর পেয়ে ডবলমুরিং থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ক্ষুব্ধ লোকজন পুলিশের কাছ থেকে যুবককে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশ সেখানে প্রায় দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সহকারী কমিশনার (মিডিয়া) আমিনুর রশিদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আজ দুপুরে আগ্রাবাদ এলাকায় সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত যুবককে আটক করতে গেলে বাকলিয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক। শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত যুবককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।’
পূর্বের ঘটনা
এর আগে বৃহস্পতিবার বিকালে নগরীর বাকলিয়া থানাধীন চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় বাসিন্দা চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকাবাসীর মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে ওই এলাকায় ধর্ষকের অবস্থান শনাক্ত করে বিকাল থেকে স্থানীয় লোকজন একটি ভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ করতে থাকে। পরে পুলিশ অভিযুক্তকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় বিক্ষুব্ধ লোকজন পুলিশকে দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে বিদ্যুৎ চলে গেলে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে কৌশলে থানায় নিয়ে যায়।
অভিযুক্তকে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ লোকজন পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষুব্ধ জনতার ব্যাপক সংঘর্ষ ঘটে। চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুর। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার শেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এতে পুলিশ, সাংবাদিক ও বিক্ষুব্ধ লোকজনসহ কমপক্ষে ৩০ থেকে ৪০ জন আহত হয়েছেন।



