দেড়যুগ ধরে শিকলবন্দি বনলতা, মানবেতর জীবন কাটছে মাদারীপুরে
দেড়যুগ ধরে শিকলবন্দি বনলতা, মানবেতর জীবন মাদারীপুরে

মাদারীপুরের ডাসার উপজেলায় দেড়যুগ ধরে শিকলবন্দি অবস্থায় দিন কাটছে বনলতা হালদার (৩৫) নামের এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর। শৈশবে সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠা বনলতা কৈশোরে পা দিতেই হঠাৎ মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। এরপর প্রতিবেশীদের অভিযোগ ও নিরাপত্তার অজুহাতে তাকে দীর্ঘদিন ধরে গাছের সঙ্গে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হচ্ছে।

পরিবারের অসহায়ত্ব

বনলতা মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের নয়াকান্দি গ্রামের মৃত কার্তিক হালদারের মেয়ে। অভাবের সংসারে মা ও দুই ভাই অন্যের জমিতে কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। চরম দারিদ্র্যের কারণে বনলতার উন্নত চিকিৎসা করাতে পারছে না পরিবার। বাবা বেঁচে থাকতে কিছুদিন চিকিৎসা হলেও তার মৃত্যুর পর আর্থিক সংকটে সব চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যায়।

শিকলবন্দি জীবন

প্রায় দেড়যুগ ধরে বনলতাকে বাড়ির পাশে পুকুরপাড়ে গাছের সঙ্গে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হচ্ছে। রোদ-বৃষ্টি বা ঝড়—সবকিছু উপেক্ষা করে সকাল থেকে সন্ধ্যা, এমনকি কখনো সারারাত তাকে গাছের সঙ্গেই বন্দি থাকতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে নিয়মিত খাবারও জোটে না তার কপালে। এভাবেই অমানবিক ও মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভাইয়ের বক্তব্য

বনলতার বড় ভাই মিন্টু হালদার বলেন, 'আমার বোনের ১৮ বছর বয়স থেকে মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। টাকার অভাবে সঠিক চিকিৎসা করাতে পারিনি। এখন সে প্রায় উন্মাদ। মানুষ দেখলে গালিগালাজ করে বলে বাধ্য হয়ে শিকলে বেঁধে রাখতে হয়। অন্যের জমিতে কাজ করে কোনোমতে আমাদের সংসার চলে। কোনো সহৃদয় ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা পেলে হয়তো বোনটাকে সুস্থ করতে পারতাম।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয় প্রশাসনের পদক্ষেপ

নবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দুলাল তালুকদার জানান, ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে তাকে প্রতিবন্ধী ভাতার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। তবে উন্নত চিকিৎসার জন্য বড় ধরনের আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন। চিকিৎসার ব্যবস্থা হলে হয়তো স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারে।

ডাসার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকিয়া সুলতানা এ বিষয়ে বলেন, 'বনলতা হালদার নামের ওই নারীর মানবেতর জীবনযাপনের বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। সমাজসেবা অফিস থেকে তাকে প্রতিবন্ধী কার্ড করে দেওয়া হয়েছে। আমরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও খোঁজখবর নিচ্ছি। পরিবারের সম্মতি থাকলে সরকারিভাবে তাকে মানসিক হাসপাতালে ভর্তির জন্য প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতা করা হবে।'