বাউফলে স্বামীর পাশে চিরনিদ্রায় স্ত্রী ও তিন সন্তান
বাউফলে স্বামীর পাশে চিরনিদ্রায় স্ত্রী ও তিন সন্তান

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহত একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের মধ্যে চারজনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে শনিবার (১৬ মে) বাউফল উপজেলার উত্তর কনকদিয়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে। এর আগে উত্তর কনকদিয়া আলিম মাদ্রাসার মাঠে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার নামাজে স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহমেদসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।

দুঃখজনক ঘটনার বিবরণ

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত আবুল কালাম (৪৮) প্রায় ৩০ বছর আগে কাজের সন্ধানে নারায়ণগঞ্জে পাড়ি জমান। সেখানে তিনি সবজি ব্যবসা শুরু করেন। পরে উজিরপুরের সালমা নামের এক নারীকে বিয়ে করে সংসার শুরু করেন। তাদের ঘরে তিন সন্তান জন্ম নেয়। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ফতুল্লার একটি দশতলা ভবনের নিচতলায় বসবাস করতেন কালাম। কয়েকদিন আগে ওই বাসায় গ্যাস লাইন লিকেজ হয়। বিষয়টি কালাম বাড়ির মালিক ও দারোয়ানকে জানালেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

বিস্ফোরণ ও হাসপাতালে চিকিৎসা

গত রোববার ভোরে কালাম তরকারি গরম করার জন্য লাইটার দিয়ে গ্যাসের চুলা জ্বালাতে গেলে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে কালামসহ পরিবারের পাঁচ সদস্য গুরুতর দগ্ধ হন। তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সোমবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় কালামের মৃত্যু হয়। ওইদিনই তার লাশ বাড়িতে এনে দাফন করা হয়। পরে বুধবার ছোট মেয়ে কথা মনি (৭), বৃহস্পতিবার ছেলে মুন্না (৮) ও মেয়ে মুন্নি (১০) এবং শুক্রবার স্ত্রী সালমা (৩২) মারা যান।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নিহতের ভাই রফিকুল ইসলাম জানান, আগুনে কালামের শরীরের ৯৫ শতাংশ, সালমার ৬০ শতাংশ, মুন্নির ৩৫ শতাংশ, কথার ৫২ শতাংশ ও মুন্নার ৪০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শেষ ইচ্ছা অপূর্ণ

কালামের ভাইয়ের মেয়ে মেঘলা (২৫) বলেন, তারা ৩০ বছর ধরে ফতুল্লায় বসবাস করছিলেন। কষ্ট করে টাকা জমিয়ে বাড়িতে একটি ঘর তুলেছিলেন, যার নির্মাণকাজ অসমাপ্ত ছিল। তাদের ইচ্ছা ছিল কুরবানির ঈদে এসে বাকি কাজ শেষ করে গ্রামে ফিরে আসবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা কফিনবন্দি হয়ে বাড়ি ফিরলেন।

স্থানীয় বাসিন্দা টিপু মুন্সী বলেন, একসঙ্গে একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একজনও বেঁচে নেই। পুরো পরিবারটি নিঃশেষ হয়ে গেল। গ্রামে চলছে শোকের মাতম।