অনিয়ন্ত্রিত স্ক্রিন: শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি
অনিয়ন্ত্রিত স্ক্রিন: শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি

সাম্প্রতিক সময়ে মোবাইল ফোন, টিভি, ট্যাব ও কম্পিউটারের স্ক্রিনে শিশুদের আসক্তি উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। এই অনিয়ন্ত্রিত স্ক্রিন ব্যবহার শিশুদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার স্কুলপড়ুয়া শিশুরা প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪ দশমিক ৬ ঘণ্টা সময় ডিজিটাল স্ক্রিনের সামনে কাটায়। দুই বছর ধরে ঢাকার ছয়টি স্কুলের ৪২০ জন শিশুর ওপর পরিচালিত এই গবেষণার ফলাফল ৪ মে জার্নাল অব মেডিক্যাল ইন্টারনেট রিসার্চ (জেএমআইআর) হিউম্যান ফ্যাক্টরস-এ প্রকাশিত হয়েছে।

শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি

গবেষণায় দেখা গেছে, পাঁচজন শিশুর মধ্যে চারজন (৮৩%) প্রতিদিন দুই ঘণ্টার বেশি স্ক্রিন ব্যবহার করে, যা আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সীমা ছাড়িয়ে গেছে। এর ফলে শিশুদের ঘুম কমে যাচ্ছে—যারা বেশি স্ক্রিন ব্যবহার করে তারা গড়ে মাত্র ৭ দশমিক ৩ ঘণ্টা ঘুমায়, যা প্রয়োজনীয় ৮-১০ ঘণ্টার তুলনায় অনেক কম। এক-তৃতীয়াংশের বেশি শিশু চোখের সমস্যায় এবং ৮০ শতাংশ শিশু মাথাব্যথায় ভুগছে। প্রায় ১৪ শতাংশ শিশু অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতার শিকার, যা বেশি স্ক্রিন ব্যবহারকারীদের মধ্যে আরও বেশি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গবেষণার প্রধান গবেষক ও আইসিডিডিআরবির সহকারী বিজ্ঞানী শাহরিয়া হাফিজ কাকন বলেন, ‘শিশুদের দেরিতে ঘুমানো, বারবার মাথাব্যথা, চোখের অস্বস্তি, খিটখিটে মেজাজ, নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া, বাইরের খেলাধুলায় অনীহা বা মনোযোগ কমে যাওয়ার মতো লক্ষণগুলোকে মা-বাবার উপেক্ষা করা উচিত নয়।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, প্রতি পাঁচজন শিশুর মধ্যে প্রায় দুজন শিশু দুশ্চিন্তা, অতিচঞ্চলতা বা আচরণগত সমস্যার মতো মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছে। অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম নিষ্ক্রিয় জীবনযাপনকে উৎসাহিত করে, যা দীর্ঘমেয়াদে স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ, শেখার ক্ষমতা, আবেগ নিয়ন্ত্রণ ও শারীরিক বৃদ্ধিতে বাধা সৃষ্টি করে।

সমাধানের পথ

স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা শিশুদের বাইরের খেলাধুলা, শারীরিক পরিশ্রম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং ডিজিটাল ডিভাইস-মুক্ত পারিবারিক সময় কাটাতে উৎসাহিত করার পরামর্শ দিয়েছেন। শিশুদের বিতর্ক, দলবদ্ধ পড়াশোনা, লাইব্রেরি ব্যবহার এবং বাগানচর্চার মতো সৃজনশীল কাজে অংশ নেওয়াও জরুরি। বিশ্বজুড়ে গবেষণায় অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের সঙ্গে অপর্যাপ্ত ঘুম, স্থূলতা, উদ্বেগ ও পড়াশোনায় দুর্বল ফলাফলের যোগসূত্র পাওয়া গেছে।