হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত ‘এমভি হোন্ডিয়াস’ নামের প্রমোদতরি থেকে যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রোববার স্পেনের কানারি দ্বীপপুঞ্জের তেনেরিফের কাছে নোঙর করা জাহাজটি থেকে প্রথমে স্পেনের নাগরিকদের তীরে নামানো হয়। ছোট নৌকায় করে পাঁচজন করে তাঁদের গ্রানাদিয়া দে আবোনার বন্দরে আনা হয়। পরে বাসে করে স্থানীয় বিমানবন্দরে পাঠানো হয়।
স্পেনের নাগরিকদের প্রক্রিয়া
সরকারি কর্মকর্তারা জানান, যেসব যাত্রীর মধ্যে এখনো ভাইরাসের উপসর্গ দেখা যায়নি, তাঁদের স্পেনের সামরিক উড়োজাহাজে করে মাদ্রিদে নেওয়া হবে। সেখানে তাঁদের কোয়ারেন্টিনে রাখা হবে এবং হাসপাতালে পাঠানো হবে যাতে সাধারণ মানুষের সংস্পর্শে আসতে না পারেন।
জাহাজের পটভূমি ও আন্তর্জাতিক সহায়তা
এমভি হোন্ডিয়াস গত বুধবার আটলান্টিক মহাসাগরের কেপভার্দে উপকূল থেকে স্পেনের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অনুরোধে স্পেন যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব নেয়। বেলজিয়াম, ফ্রান্স, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও নেদারল্যান্ডসসহ কয়েকটি দেশ নিজেদের নাগরিকদের সরিয়ে নিতে উড়োজাহাজ পাঠিয়েছে। তবে কানারি দ্বীপপুঞ্জের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোববার সকাল পর্যন্ত সব উড়োজাহাজ পৌঁছায়নি।
ডব্লিউএইচওর তথ্য ও ঝুঁকি মূল্যায়ন
ডব্লিউএইচও গত শুক্রবার জানায়, আটজন অসুস্থ ব্যক্তিকে জাহাজ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে তিনজন মারা গেছেন। মৃতদের মধ্যে নেদারল্যান্ডসের এক দম্পতি ও জার্মানির একজন নাগরিক রয়েছেন। আটজনের মধ্যে ছয়জনের শরীরে হান্টাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। বাকি দুজনকে সন্দেহভাজন রোগী হিসেবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ইউরোপের জনস্বাস্থ্য সংস্থা শনিবার রাতে জানায়, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে জাহাজের সব যাত্রীকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তি হিসেবে ধরা হচ্ছে। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কম। ডব্লিউএইচও রোববার থেকে ৪২ দিনের কোয়ারেন্টিনের সুপারিশ করেছে।
স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ইঁদুরের উপস্থিতি
স্পেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজে স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং পরিবেশগত পরিস্থিতি সন্তোষজনক। জাহাজে ইঁদুরের কোনো উপস্থিতি পাওয়া যায়নি, ফলে ইঁদুরের মাধ্যমে সংক্রমণের সম্ভাবনা কম।
পরবর্তী পদক্ষেপ
স্পেনের কর্মকর্তারা জানান, নির্ধারিত উড়োজাহাজ না পৌঁছানো পর্যন্ত কেউ জাহাজ ছাড়তে পারবেন না। স্পেনের পর নেদারল্যান্ডসের যাত্রীদের নামানো হবে। নেদারল্যান্ডসের উড়োজাহাজে জার্মানি, বেলজিয়াম ও গ্রিসের যাত্রীদেরও সরিয়ে নেওয়া হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোনিকা গার্সিয়া বলেন, এরপর তুরস্ক, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের যাত্রীদের সরানো হবে। সবশেষে অস্ট্রেলিয়া থেকে আসা উড়োজাহাজে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও এশিয়ার কয়েকটি দেশের ছয়জন যাত্রীকে নেওয়া হবে। জাহাজের ৩০ নাবিক জাহাজে থাকবেন এবং পরে জাহাজটি নেদারল্যান্ডসে নিয়ে গিয়ে জীবাণুমুক্ত করা হবে।



