চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া এলাকায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার ব্যক্তি শুক্রবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে কারাগারে প্রেরিত হয়েছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার উত্তেজিত জনতা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে টানটান পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
মামলা ও গ্রেপ্তার
ভুক্তভোগী শিশুর পিতা শুক্রবার সকালে বাকলিয়া থানায় আসামি মনির হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। বিকেলে তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এদিকে, শিশুটিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা এখন বিপদমুক্ত।
উত্তেজনা ও সংঘর্ষ
বৃহস্পতিবার বিকেলে চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় পুলিশ মনিরকে আটক করলে শত শত ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দা পুলিশের গাড়ি ঘিরে ফেলে এবং আসামিকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। জনতার রাগ মূলত একটি মিথ্যা গুজবে fueled ছিল যে শিশুটি মারা গেছে। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। রাত ৮টার দিকে পুলিশ টিয়ারগ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও ফাঁকা গুলি ছুড়ে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে, যার জবাবে জনতা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। রাত ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে হঠাৎ বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সুযোগ নিয়ে পুলিশ কৌশলে আসামিকে একটি ভবন থেকে বের করে নিয়ে যায় এবং হেফাজতে নেয়। তবে ক্ষুব্ধ জনতা পরে একটি পুলিশের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং রাত পর্যন্ত পুলিশের সাথে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে।
আহত ও গ্রেপ্তার
বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোলায়মান জানান, সংঘর্ষে ৩০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন এবং তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পুলিশের ওপর হামলা ও একটি গাড়ির ব্যাটারি চুরির অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় পৃথক মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এলাকার পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক।
জনতার প্রতিক্রিয়া
ভুক্তভোগী শিশুর পিতা গণমাধ্যমে জানান, দেশে দীর্ঘসূত্রিতার কারণে সাধারণ মানুষ হতাশ হয়ে পড়েছে এবং তাই জনতা উত্তেজিত হয়ে ওঠে। তিনি দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অপরাধীকে শাস্তি দেওয়ার দাবি জানান।



