বৃহস্পতিবার ইউজিসি অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় কাউন্সিলের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, সরকারের গবেষণা তহবিল ইউজিসির মাধ্যমে বিতরণের সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষাগত স্বাধীনতা ও প্রতিষ্ঠানগত স্বায়ত্তশাসন সম্পূর্ণ অক্ষুণ্ন থাকবে এবং কোনো প্রতিষ্ঠানের গবেষণা বরাদ্দ কমানো হবে না।
গবেষণা বাজেট বাস্তবায়নে ইউজিসির পরিকল্পনা
তিনি বলেন, কমিশন স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও সমন্বয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্বায়ত্তশাসন রক্ষা করবে। জবাবদিহিতা জোরদার করতে ইউজিসি গবেষণা বাজেট বাস্তবায়ন তদারকিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করবে। গবেষণা তহবিল ব্যবস্থাপনা ও বাস্তবায়নের জন্য একটি ব্যাপক নীতিমালাও প্রণয়ন করা হবে।
নতুন তহবিল ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ
নতুন তহবিল ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগের জবাবে মামুন আহমেদ বলেন, সরকার গবেষণা বরাদ্দ ইউজিসির একটি ডেডিকেটেড বাজেট কোডের অধীনে রেখেছে। কমিশন প্রক্রিয়াটি সহযোগিতামূলক ও কার্যকর রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে নিয়মিত পরামর্শ করবে।
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় কাউন্সিলের সভাপতি অধ্যাপক ড. এসএম আবদুর রাজ্জাক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিজস্ব বাজেট কোড থেকে ইউজিসিতে গবেষণা বরাদ্দ স্থানান্তর কিছু প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি করেছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা জোরদারের প্রচেষ্টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনের দীর্ঘদিনের নীতি ক্ষুণ্ন করা উচিত নয়।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের গবেষণা বাজেট
মামুন আহমেদ বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে গবেষণার জন্য ২৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) এবং ইমপ্রুভিং কম্পিউটার অ্যান্ড সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং টারশিয়ারি এডুকেশন প্রজেক্ট (আইসিস্টেপ)-এর অধীনে তহবিল মিলিয়ে এ অর্থবছরে মোট গবেষণা তহবিল প্রায় ৮৫২ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে।
তিনি বলেন, অর্থবছরের শুরুতে স্নাতক, স্নাতকোত্তর, এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রাম থেকে প্রস্তাবনা আহ্বান করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজেদের যাচাই-বাছাই শেষে ইউজিসিতে প্রস্তাব জমা দেবে এবং ইউজিসি গবেষণার মান ও জাতীয় অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে তহবিল প্রদান করবে।
কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাদ্দ কমবে না
ইউজিসি চেয়ারম্যান পুনর্ব্যক্ত করেন যে কমিশনের মাধ্যমে গবেষণা বাজেট বাস্তবায়নে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাদ্দ কমানো হবে না। বরং আগের বছরের তুলনায় প্রতিষ্ঠানগুলোর অতিরিক্ত তহবিল পাওয়ার সুযোগ বেশি থাকবে, এবং আঞ্চলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোরও গবেষণা অনুদানে সমান প্রবেশাধিকার থাকবে।
পূর্ববর্তী অর্থবছরের একটি চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গবেষণার জন্য ৮৪৯ কোটি টাকা পেয়েছে, যার মধ্যে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ৭৯৩ কোটি টাকা এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ৫৬ কোটি টাকা রয়েছে। মোট তহবিলের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিজস্ব গবেষণা তহবিল, ইউজিসি অনুদান এবং হিট ও আইসিস্টেপ প্রকল্পের অধীনে বরাদ্দ অন্তর্ভুক্ত ছিল।
তিনি বলেন, “গবেষণা তহবিলের কোনো ঘাটতি হবে না। একাধিক উৎস থেকে অর্থায়নের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে।”



